বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থেকে নিয়ে যাওয়া কুমির ফেরত দেয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন মাজারের খাদেমরা। আজ দুপুরে এ দাবিতে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
ওই সময় প্রধান খাদেম ফকির তরিকুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মাজার কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও আলোচনা না করেই দিঘি থেকে কুমির নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাগেরহাটের ইতিহাস, ঐতিহ্যের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। এর আগেও চিকিৎসার জন্য দুটি কুমির নিয়ে যাওয়া হয়। সেগুলোও ফেরত দেয়নি। আমাদের চাওয়া যেকোনো মূল্যে দিঘির কুমির ফেরত দিতে হবে।
প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপে যাওয়ার ঘোষণাও দেন ফকির তরিকুল ইসলাম।
সম্মেলনে মাজারের খাদেম, পরিচালনা কমিটির সদস্যসহ অর্ধশতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।
সাড়ে ৬০০ বছর আগে হযরত খানজাহান আলী (রহ) দিঘিটি খনন করেন বলে কথিত আছে। বলা হয়ে থাকে, পানির সুরক্ষার জন্য দিঘিতে কুমির ছাড়া হয়। ওই কুমিরের সর্বশেষ বংশধরের মৃত্যু হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এর আগে ২০০৫ সালে ভারত থেকে ৬টি কুমির এনে দিঘিতে ছাড়া হয়। কিন্তু এর কয়েকটা মারা যায়। সর্বশেষ দুটি কুমিরের একটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যায়। এর পর থেকে একটা নারী কুমির ছিল। কুমিরটি একের পর এক মানুষ ও প্রাণিকে আক্রমণ করে আসছিল। গত ৮ এপ্রিলে কুমিরের আক্রমণে কুকুর মারা যাওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনায় আসে।
সবশেষ ১ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে দিঘির পূর্ব পাশে নারীদের ঘাটে গোসল করতে নামলে ফাতেমা আক্তারকে (৭) কুমির টেনে নিয়ে যায়। পরের দিন ভোরে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পরদিন কুমিরটিকে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।