মাদারীপুর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে গত বছর স্থাপন করা হয় গভীর নলকূপ। পাঁচতলা ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে বসানো হয় একটি করে পানির ট্যাপ, যা থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৫০০ মানুষ সুপেয় পানি পাবে। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে নলকূপটি। এতে ভেঙে পড়েছে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা।
রোগী ও তাদের স্বজনরা বলছেন, হাসপাতালে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। অনেকেই বাইরে পানি সংগ্রহ করছেন। যদিও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গণপূর্ত প্রকৌশল অধিদপ্তরের। তবে সংস্থাটি বলছে, রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। তার পরও জটিলতায় দূর করে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হবে। শিগগিরই নতুন কাউকে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হবে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের আজিজুল হক খান এক সপ্তাহ আগে তার বড় ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে ভর্তির পর থেকেই তিনি হাসপাতাল থেকে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। হাসপাতাল থেকে কিছুটা দূরের নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
আজিজুল হক খান বলেন, ‘২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে সুপেয় পানি সরবরাহ না থাকায় আমাদের অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। চারতলা থেকে বারবার নেমে আরো কিছুটা পথ হেঁটে পানি সংগ্রহ করছি। যদি হাসপাতালের প্রতিটি তলায় পানি সরবরাহ লাইন ভালো থাকত, তাহলে এ সমস্যায় পড়তে হতো না।’
শুধু আজিজুল হক খানই নন, তার মতো কয়েক হাজার রোগী ও তাদের স্বজনরা বিশুদ্ধ পানি সংকটে পড়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা হারুন কাজী বলেন, ‘আমি চারদিন ধরে হাসপাতালে রয়েছি। সুপেয় পানি আনতে হয় দূর থেকে। সরকারি হাসপাতালে আসা অধিকাংশ রোগী অসচ্ছল। টাকা দিয়ে পানি কিনতে পারে না তারা।’
মাদারীপুর হাসপাতাল ও গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে পানি সরবরাহ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। মাদারীপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের অধীনে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গ্রিন টেক করপোরেশন কাজটি করে। হাসপাতালের পাঁচতলা ভবনের প্রতিটি ফ্লোরে একটি করে পানির ট্যাপ বসানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৫০০ মানুষ বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে পারবে। তবে ছয় মাস ধরে নলকূপ বন্ধ থাকায় সুপেয় পানি পাচ্ছে না রোগীরা।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডা. মুনীর আহমেদ খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পানি সরবরাহের বিষয়টি দেখভাল করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। পানি সংকটের বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে। তারা মেরামত করে দেবে বলে জানিয়েছে। যদি তারা মেরামত না করে, তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। বিষয়টি তাদের হাতে।’
এ ব্যাপারে মাদারীপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের জন্য বিশুদ্ধ পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বেশ কয়েকবার বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু তারা ঢাকায় থাকায় সবসময় আসতে পারে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হাসপাতালে নিয়মিত পানি সরবরাহের বিকল্প উপায় খুঁজে বের করা হবে।’