দেশের শিক্ষার ভবিষ্যৎ আটকে আছে সুশাসনের দুর্বলতায়

বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। যদিও এ ব্যবস্থা এখন বড় ধরনের শিক্ষক সংকটে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৫২ দশমিক ১৮ শতাংশ পদ শূন্য।

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে বিশ্বজুড়েই প্রতিষ্ঠানগুলোয় সুশাসন নিশ্চিতে গুরুত্ব দেয়া হয়। যথাযথ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ, নজরদারি, দুর্নীতি প্রতিরোধসহ আরো অনেক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু গত দেড় দশকে বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে বিষয়গুলো উপেক্ষিত ছিল। দীর্ঘদিনের সুশাসনের দুর্বলতায় শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ভর্তির হার বাড়ালেও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং পদ্ধতিগত ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সমস্যা সব স্তরে শিক্ষার মানকে ব্যাহত করছে। প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরে আছে প্রধান শিক্ষকের সংকট, পর্যাপ্ত জনবল নেই জেলা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার মতো মাঠপর্যায়ের মনিটরিংযুক্ত পদগুলোয়। বিভিন্ন জায়গায় স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে আছে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় আছে দুর্নীতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণায় জালিয়াতির মতো ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়টি সামনে এনেছে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল।

চলতি বছর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির প্রকাশ করা নির্বাচনী ইশতাহারে সুশাসন নিশ্চিত বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। শিক্ষা খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, প্রাথমিক শিক্ষায় বেশি জোর দেয়া, মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষা সংস্কার কমিশন তৈরির মতো বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। আরো বলা হয়েছে, ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব, লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস, মিড ডে মিল, বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন, শিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগের কথা।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। যদিও এ ব্যবস্থা এখন বড় ধরনের শিক্ষক সংকটে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের ৫২ দশমিক ১৮ শতাংশ পদ শূন্য। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিকে প্রধান শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৬৫ হাজার ৪৫৭টি, আর বিপরীতে পদ শূন্য ৩৪ হাজার ১৫৯টি। প্রধান শিক্ষক পদে সর্বশেষ যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়, সেখানে পদের উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ১ হাজার ১২২টি। যা শূন্য পদের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে মনে করেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিদ্যালয়ে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে।

প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতির বিষয়টি উঠে এসেছে জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন প্রতিবেদনে। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫১ শতাংশ বাংলায় ও ৩৯ শতাংশ গণিতে শ্রেণী বিবেচনায় কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন করেছে। পঞ্চম শ্রেণীর ক্ষেত্রে বাংলায় এ হার ছিল ৫০ ও গণিতে ৩০ শতাংশ।

এক দশকের আগের প্রতিবেদনের সঙ্গে তুলনা করে দেখা যায়, এ সময়ে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে ৩৩ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হলেও শ্রেণী অনুযায়ী দক্ষতা অর্জনকারী শিক্ষার্থীর হার কমেছে। ২০১১ সালের জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেবার তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ বাংলায় ও ৫০ শতাংশ গণিতে শ্রেণী অনুযায়ী কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় দক্ষতা অর্জন করেছিল। আর পঞ্চম শ্রেণীর ক্ষেত্রে বাংলায় এ হার ছিল ২৫ আর গণিতে ৩৩ শতাংশ। সে অনুযায়ী প্রায় এক যুগে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জনে তৃতীয় শ্রেণীতে বাংলায় এ হার কমেছে ১৬ শতাংশীয় পয়েন্ট, গণিতে ১১ পয়েন্ট। পঞ্চম শ্রেণীর ক্ষেত্রে বাংলায় পারফরম্যান্সে উন্নতি হলেও গণিতে অবনতির মাত্রা ৬ শতাংশীয় পয়েন্ট।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মাহমুদা হাবিবা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের দেশের বাস্তবতায় কোনো পদ শূন্য থাকার কথা নয়। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক জটিলতার ফলে শূন্য পদের সংখ্যা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। যেমন শিক্ষামন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ীই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে ৮৩ হাজারের বেশি মামলা রয়েছে। বর্তমানে শূন্য পদ পূরণের ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হলো এসব মামলা। তবে এর পরও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সংকট কমিয়ে আনার।’

মাহমুদা হাবিবা আরো বলেন, ‘বর্তমান সরকারের একটি অগ্রাধিকার খাত হলো শিক্ষা। বিশেষত প্রাথমিক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কারণ একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার ভিত্তি তৈরি হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। এরই মধ্যে স্কুল ফিডিং, ইউনিফর্ম প্রদানসহ বেশকিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। দক্ষ নেতৃত্ব তৈরি ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এছাড়া মনিটরিং ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এবং প্রাথমিক শিক্ষা খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে ডিজিটালাইজেশনসহ বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেগুলো রাতারাতি দূর হবে এমনটি নয়। তবে সরকার সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিক ও সচেষ্ট।’

২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন সরকার।৷তবে বিনামূল্যে বই বিতরণ শুরুর পর থেকেই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, নিম্নমানের কাগজে, অতিরিক্ত মূল্য দেখানোসহ নানা অভিযোগও উঠতে শুরু করে। সম্প্রতি প্রকাশিত শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত সেই সরকারের সময় শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহের কার্যক্রমে ২ হাজার ৭১১ কোটির বেশি টাকার আর্থিক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এ অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ ৫০টি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান জড়িত।

বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিসহ সব ক্ষেত্রেই মানসম্মত শিক্ষা এবং সুশাসনে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছে। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষা খাতে সুশাসন নিশ্চিতে পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ ফাঁকা থাকা শিক্ষার মানে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যথাযথ মনিটরিং। মাঠ পর্যায়েই যদি মনিটরিংয়ের পদগুলো শূন্য থাকে তাহলে শিক্ষা খাতে সুশাসন নিশ্চিতভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অতীতে আমরা শিক্ষা খাতে ব্যাপক নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য ও দুর্নীতি দেখেছি। শিক্ষার সুশাসন নিশ্চিতে অন্যতম বাধা এ বিষয়গুলো। কিন্তু এসব ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সর্বশেষ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে যাদের বাদ দেয়া হয়েছে তাদের কেন বাদ দেয়া হলো এবং শিক্ষক নিয়োগে কেন পুলিশ ভেরিফিকেশন দরকার হলো সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। শিক্ষা ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট পদগুলোয় যেমন পদায়ন করতে হবে, তেমনই সুশাসন নিশ্চিতে নিয়োগ বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য এবং দলীয়করণ বন্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

দেশে বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৭০২। অথচ প্রধান শিক্ষকের পদ আছে ৫৭২টি। এ ৫৭২ পদের ৩৭৯টি আবার শূন্য, যা মোট পদের ৬৬ শতাংশ। এছাড়া বিদ্যালয়গুলোয় সাধারণত এক বা একাধিক সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ থাকে। বর্তমানে ৭০৩ সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত ১৭৫ জন আর শূন্য পদের সংখ্যা ৫২৮, যা মোট পদের ৭৫ শতাংশ।

শিক্ষকের মতো সংকট রয়েছে মনিটরিং পদগুলোয়ও। বর্তমান কাঠামোয় আঞ্চলিক বিদ্যালয় পরিদর্শক, সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারাই মূলত মাঠপর্যায়ে মাধ্যমিকের প্রতিষ্ঠান মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করেন। মাউশির তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয় পরিদর্শক ও সহকারী বিদ্যালয় পরিদর্শকের ১৬টি করে পদের সবক’টিই (১০০ শতাংশ) বর্তমানে শূন্য। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ৬৪টি পদের মধ্যে ২৩টি শূন্য (৩৬ শতাংশ) এবং সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ৬৪টি পদের সবই (১০০ শতাংশ) ফাঁকা রয়েছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ৪৯৬টি পদের ৩১৫টি (৬৪ শতাংশ) ও সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার ৪৯৬টির মধ্যে ৩০৭টি (৬২ শতাংশ) শূন্য রয়েছে।

ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং স্তরের পদে শূন্যতা প্রভাব ফেলছে শিক্ষার মানেও। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। বিশ্বব্যাংকের হিউম্যান ক্যাপিটাল ইনডেক্স অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন শিক্ষার্থী ১০ বছর দুই মাস শিক্ষাজীবন শেষে অর্থাৎ একাদশ শ্রেণীতে যা শিখছে তা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ছয় বছরের অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণীর দক্ষতার সমান।

জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের ১ হাজার ৩৪৯টি পদ শূন্য রয়েছে এবং এমপিওভুক্ত কলেজে শিক্ষক নিয়োগের জন্য মোট ১ হাজার ৩৪৪টি শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া সরকারি কলেজে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত প্রভাষক পদের শূন্য সংখ্যা ৬৫৬ এবং সদ্য সরকারীকৃত কলেজে নন-ক্যাডার প্রভাষক পদ শূন্য ২ হাজার ৪১০টি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘গুণগত শিক্ষার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো পূর্ণ থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিগত দেড় দশকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে উদ্ধার করতে হলে বর্তমান সরকারকে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করতে হবে। সর্বাগ্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও মাঠপর্যায়ের মনিটরিং পদগুলোয় নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।’

বিগত দেড় দশকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় নানা ধরনের দুর্নীতির ঘটনা বারবার আলোচনায় এসেছিল। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় এসব কমিটির বিরুদ্ধে উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। সম্প্রতি পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রায় ৬০০ কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। ডিআইএর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে নির্মাণ ও মেরামতে ৪৩৬ কোটি টাকার অনিয়ম হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের একাডেমিক উন্নয়ন ও নগর ভাতার নামে ৮৭ কোটি টাকা লুটপাট করা হয়। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ম্যাগাজিন ফি নিয়েও তা না ছাপিয়ে ৫ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটি অবৈধভাবে সম্মানী নিয়েছে ২ কোটি টাকা। প্রায় ৪৮ কোটি টাকার ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া হয়েছে।

মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মাধ্যমিক স্তরের শূন্য পদগুলো পূরণ ও পদোন্নতির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আর মাধ্যমিক শিক্ষা খাতকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।’

শিক্ষার সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে উচ্চ শিক্ষা স্তরেও। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৬ আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১১৭টি। আগস্ট পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য ও ৮৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ-উপাচার্য নেই। আর ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কোষাধ্যক্ষ নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতির ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উপাচার্যের অনুপস্থিতি একাডেমিক নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে দুর্বল করে; সহ-উপাচার্যের শূন্যতা দায়িত্ব বণ্টন ও তদারকিতে ঘাটতি তৈরি করতে পারে; আর কোষাধ্যক্ষ না থাকলে আর্থিক জবাবদিহির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর দুর্বল হয়। এতে ট্রাস্টি বোর্ড ও একাডেমিক প্রশাসনের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নিয়োগের সঙ্গে যেহেতু মর্যাদা, সম্পদ বণ্টন ও প্রভাবের প্রশ্ন জড়িত তাই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, ট্রাস্টিদের সঙ্গে মতবিরোধ কিংবা নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অচলাবস্থা তৈরি করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তবে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অনুসন্ধান ছাড়া সব শূন্য পদের কারণ এক বলে ধরে নেয়া ঠিক হবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত শূন্য পদের পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করে যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগের নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা। স্থায়ী নিয়োগের আগ পর্যন্ত দায়িত্ব ও ক্ষমতা স্পষ্ট করে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কার্যালয়ে পর্যাপ্ত জনবল, সরজমিন পরিদর্শন এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। মনিটরিং শুধু হাজিরা ও কাগজপত্র দেখায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; কতটা পাঠদান হচ্ছে এবং শিশুরা কতটা শিখছে, সেটিও নিয়মিত ও স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। শিক্ষায় সুশাসনের চূড়ান্ত পরীক্ষা হলো প্রতিষ্ঠান চালু আছে কিনা তা নয়, বরং শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা পাচ্ছে কিনা সেটা নিশ্চিত করা।

গত দেড় দশকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রিন্ট মেকিং বিভাগে প্রভাষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তির শর্তে ছিল প্রার্থীর এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ ৫-এর মধ্যে ন্যূনতম ৪ দশমিক ২৫ ও প্রিন্ট মেকিং বিভাগে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে অন্তত ৩ দশমিক ৫০ বা প্রথম শ্রেণী থাকতে হবে। তবে নিয়োগ পাওয়া তিন শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল বশির, ঝোটন চন্দ্র রায় ও স্বপন কুমার সানা নিয়োগ পেয়েছিলেন এসব শর্ত পূরণ না করেই। দেশের সবচেয়ে পুরনো এ বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দেড় দশকে নিয়োগ পেয়েছেন ১ হাজার ৪০০-এরও বেশি শিক্ষক। তবে অভিযোগ আছে, এদের বড় অংশই নিয়োগ পেয়েছেন দলীয় বিবেচনায় শর্ত শিথিল, আর্থিক লেনদেনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, একই ধরনের অভিযোগ ছিল অন্য অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে। টিআইবির এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই সময়ে শিক্ষক পদে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে নিয়োগে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক অনিয়ম হয়েছে।

অভিযোগ আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার মান নিয়েও। অনেক সময় শিক্ষকের বিরুদ্ধে উঠেছে গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ। এর জেরে কিউএস র‍্যাংকিং, টাইমস হায়ার এডুকেশন র‍্যাংকিংয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সেরা ৫০০তেও স্থান পাচ্ছে না।

রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত হলেও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসনের ক্ষেত্রে রয়েছে বড় ধরনের কাঠামোগত ঘাটতি। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা ও জবাবদিহির ঘাটতির বিষয়টি সামনে এনেছে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হিসাবমান অনুসরণ করে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করছে না। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় কেবল আয়-ব্যয়ের সাধারণ হিসাব তৈরি করছে, যার মাধ্যমে তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার পূর্ণ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট সম্পদ, দায়, মূলধন ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা অনুপস্থিত থাকছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু হিসাব ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা নয়; বরং উচ্চ শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের ওপর কার্যকর জবাবদিহিতার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি করছে।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনিটরিংয়ে মূল ভূমিকা পালন করার কথা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের। তবে ইউজিসির ক্ষমতাও সীমিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম হলেও সে বিষয়ে ইউজিসির সরাসরি পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগ নেই। বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী ইউজিসির কার্যক্রম পদ-বাজেট অনুমোদন, নির্দেশনা প্রদান এবং তদন্ত কমিটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষায় শ্রেণীকক্ষে শিক্ষাদানের জন্য যে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা থাকা দরকার, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এখানে তার ঘাটতি ছিল। এর মূল কারণ আমরা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে নগ্নভাবে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলেছিলাম, যার ফলে এতদিন মানসম্পন্ন শিক্ষক নিতে পারিনি। এছাড়া বিদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করলে দেখা যায়, আমাদের শিক্ষকদের পেশাদারত্ব ও দায়বদ্ধতায় একটা ঘাটতি রয়েছে। সবাইকে ঢালাওভাবে বলছি না, তবে অনেকের ক্ষেত্রেই এটি দেখেছি। একজন শিক্ষক ক্লাসে গিয়ে শুধু পাঠদান করেই চলে আসবেন না; শিক্ষার্থীকে বোঝা, তার মনস্তত্ত্ব অনুধাবন করা এবং তার ভেতরের সুপ্ত মেধা বের করে আনার যে কাজগুলো, তা এখানে দেখা যায় না।’

গবেষণার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অতীতে অধিকাংশ গবেষণাই হয়েছে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পদোন্নতির জন্য, কয়টি প্রবন্ধ লাগবে সে হিসাবে। এ পুরো বিষয়গুলোয় আসলে সুশাসনের অভাব ছিল। ফলে নিয়োগ থেকে শুরু করে গবেষণার অর্থ বরাদ্দ—সবকিছুতেই একটা অস্বচ্ছতা ছিল। তবে বর্তমান সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ দেখে মনে হচ্ছে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। যেখানে সমাজে প্রভাব ফেলা গবেষণা থাকবে, শিক্ষাদানের মান বজায় থাকবে। অর্থ বরাদ্দ কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, নিয়োগ কীভাবে হচ্ছে এবং শিক্ষকদের পেশাদারত্ব ও মূল্যায়ন ঠিকমতো হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে জবাবদিহি আসবে। যদিও এটি রাতারাতি সম্ভব নয়। তবে সেই সূচনাটা যেহেতু হয়েছে, তাই একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে আমি বিষয়টি নিয়ে আশাবাদী।’

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জানতে চাইলে গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান নতুন প্রকল্পের দিকে না গিয়ে বিদ্যমান কাঠামোকে কার্যকর করার দিকে নজর দেয়া দরকার বলে মনে করেন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমাদের মূল জায়গাগুলোয় আগে হাত দেয়া দরকার। যেমন প্রধান শিক্ষকের পদ কেন খালি থাকবে? যখনই বিষয়টি নিয়ে কথা হয় তখনই নিয়মকানুন, আইনি জটিলতা ইত্যাদির অজুহাত দেয়া হয়। এগুলো আসলে কিছু নয়, মূলত একটি দৃঢ় সিদ্ধান্তের ঘাটতি। আমাদের ঢাকায় তো একটির জায়গায় তিনটি সচিবের পদ তৈরি হচ্ছে, কিন্তু জেলা পর্যায়ে শিক্ষা কর্মকর্তার পদ কেন একটিও খালি থাকবে? কারণ হয় কেউ সেখানে যেতে চায় না, নয়তো বিষয়টি ঠিক করার দিকে কারো নজর নেই। আমাদের নিয়োগ ও পদায়নের ক্ষেত্রে পেশাদারি দৃষ্টিভঙ্গির চরম অভাব রয়েছে। এখানে কেবল দরকষাকষি আর চক্রান্ত চলে। মূল ব্যবস্থাটিকে (কোর সিস্টেম) উন্নত করার চেয়ে সবার নজর থাকে নতুন নতুন প্রকল্প নেয়ার দিকে। বিদ্যমান যে ব্যবস্থাগুলো রয়েছে, সেগুলোকে কার্যকর করার দিকে নজর খুবই দুর্বল। আর এটি কিন্তু আজকের নতুন কোনো সমস্যা নয়। আজ থেকে ২০ বছর আগে শিক্ষার ওপর গবেষণা করে আমরা যে কথাগুলো বলেছিলাম, এখনো সেগুলোই বলতে হচ্ছে।’

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এ উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘আমরা জবাবদিহিতা নিয়ে অনেক কথা বলি, কিন্তু সংসদে এসব বিষয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা হয় না। এমনকি আমাদের সুশীল সমাজও কেবল দুর্নীতি বা রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়েই বেশি সোচ্চার থাকেন। অথচ নিয়মিত প্রশাসনিক কাঠামোর শক্তিশালীকরণ এবং তার সহজলভ্য কিছু সমাধান—যেমন এ শূন্যপদগুলো পূরণ করা নিয়ে কথা কম হয়। আইনের জটিলতার অজুহাত দিয়ে এগুলো আটকে রাখা বন্ধ করতে চাইলে অবশ্যই সম্ভব এবং সেই পদক্ষেপ নেয়ার সুযোগও রয়েছে।’

বিগত ১৫ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বীথিকা বিনতে হোসাইন। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘একটি জাতিকে মেরুদণ্ডহীন করার লক্ষ্যেই অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব, শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি, অটোপাস প্রথা ও ঢালাও জিপিএ-৫ প্রদানের মতো মানহীন মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এ সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে একটি টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। পাবলিক পরীক্ষাগুলোয় প্রকৃত মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হচ্ছে। “‍লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস” পদ্ধতিতে পাঠদানের মাধ্যমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে শিশুদের পড়ালেখায় উদ্বুদ্ধ করা, পোশাক-পাঠ্যবইসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করা এবং প্রাথমিক স্তর থেকেই দক্ষ শিক্ষক তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেয়া হচ্ছে।’

উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উচ্চ শিক্ষাকে যুগোপযোগী করা, উদ্ভাবনী গবেষণা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত জনশক্তি তৈরির লক্ষ্যে এবার জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপে জোর দিচ্ছে। শিক্ষা খাতের বিদ্যমান প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করে ক্রমান্বয়ে সমাধানের মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি মজবুত, বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য।’

আরও