ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে কাজ করছে সরকার: ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

ডাক বিভাগকে আধুনিক, জনবান্ধব ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্তকরণ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ডাকসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে এবং পার্সেল সেবায় ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ডাক বিভাগকে আধুনিক ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডাক বিভাগে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করতে চায় বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। আগামী দিনে ডাক বিভাগের সেবার মান, আয় ও সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নগদ বিক্রির কোনো পরিকল্পনা সরকারের এই মুহূর্তে নেই। বরং প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি চালুর লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে কারিগরি প্রক্রিয়া ও পরীক্ষার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখতে হবে।

ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, কাজের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন কর্মীদের উৎসাহিত করে। তাই যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদানের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ের ডাকঘর ও কর্মীদের কাজের মূল্যায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি বলেন, ডাক বিভাগের বিদ্যমান অবকাঠামো ও দেশব্যাপী বিস্তৃত পোস্ট অফিস নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে আধুনিক, জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর ডাকসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্যে ডাকসেবার সংস্কার ও রূপান্তরের পাশাপাশি ভূমিসেবা সহায়তা কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় এবং ডাক বিভাগের ফ্র্যাঞ্চাইজি কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সচিব আরো বলেন, ডাকসেবার প্রচার-প্রচারণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে হবে। ভবিষ্যতে পুরস্কার কার্যক্রমে নতুন প্রতিভার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এ বছর বিশ্ব ডাক দিবসের প্রতিপাদ্য 'সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা'। গত ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস উদযাপনের ধারাবাহিকতায় ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ডাকসেবা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে এ বছরের প্রতিপাদ্যের ওপর আজ একটি স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করা হয়।

ডাকসেবা সপ্তাহ উপলক্ষে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এবং দেশব্যাপী চিঠি উৎসব, ফিলাটেলিক প্রদর্শনী, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর অংশ হিসেবে দেশের ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ এবং কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ মোট ২৬টি স্থানে চিঠি উৎসব, ডাকটিকিট প্রদর্শনী ও ডাকসেবা মেলার আয়োজন করা হয়। এসব চিঠি উৎসবে প্রায় ৪ হাজার ৬৪৩টি চিঠি ইস্যু করা হয়, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হাতে চিঠি লেখার আগ্রহ ও চর্চা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৫ জন শিক্ষার্থী, ৫৫তম আন্তর্জাতিক পত্রলিখন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ৩ জন, পোস্টাল ব্যালট কার্যক্রমে অসাধারণ অবদানের জন্য ৪ জন কর্মচারী, লেটার পোস্ট সেবায় অসাধারণ অবদানের জন্য ৬ জন কর্মচারী, ডাকসেবায় অসাধারণ অবদানের জন্য ৫ জন কর্মকর্তা এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’-এর ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও নগদ সেবা ক্যাটাগরিতে অসাধারণ অবদানের জন্য ৬ জন প্রতিনিধিসহ মোট ২৯ জনকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

ডাক বিভাগের সেবার পরিধি সম্প্রসারণ, সেবার মানোন্নয়ন ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধিতে বিশ্ব ডাক দিবস ও ডাকসেবা সপ্তাহের এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম এর সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে ডাক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও