চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে প্রায় ৬ ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে গতকাল বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও রাত পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি মহাসড়কে যান চলাচল। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রী ও পরিবহনচালকরা।
গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন মহাসড়কে লরির ধাক্কায় একটি মিনিবাস উল্টে যায়। বাসটির নিচে চাপা পড়ে নিহত হন আইআইইউসির ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত। এ ঘটনায় রাজিয়াসহ আরো তিনজন আহত হন। দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দুটি লরির মধ্যে প্রতিযোগিতার চিত্র দেখা গেছে। এর মধ্যে একটি লরি সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা মিনিবাসকে ধাক্কা দিলে সেটি উল্টে যায়।
শিক্ষার্থী নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহাসড়ক অবরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে রেলপথও অবরোধ করা হলে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যাহত হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পাশাপাশি কেডিএস ডিপোসহ আশপাশের এলাকায় অবৈধ লরি পার্কিং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে ঘটনাস্থলে যান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ সময় পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের জানান, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সড়ক বিভাগের কাছে লিখিতভাবে প্রস্তাব পাঠানো হবে। পাশাপাশি অবৈধ লরি পার্কিং বন্ধ, রেললাইনের পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং দুর্ঘটনায় জড়িত চালককে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চালককে গ্রেফতার, চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, কেডিএস ডিপোর অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ সড়ক পারাপার নিশ্চিত করা। জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে বিকাল ৪টা ১০ মিনিটে অবরোধ প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা।
তবে অবরোধ প্রত্যাহারের পর বিকাল থেকে যান চলাচল শুরু হলেও রাত ৮টা পর্যন্ত সীতাকুণ্ড অংশে মহাসড়কের উভয় মুখে যানবাহন চলাচল ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। টানা অবরোধে আটকে পড়া যানবাহনের চাপ সামাল দিতে না পারায় যানজট অব্যাহত থাকে। মহাসড়কের এ যানজট চট্টগ্রাম শহরের প্রবেশমুখ পর্যন্ত থেকে শহরের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও ছড়িয়ে যায়।
চট্টগ্রাম শহর থেকে অফিস শেষে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ইউনিয়ন এলাকার উদ্দেশ্যে বাসে ভ্রমণ করা সরকারি কর্মকর্তা দুলাল দাশ বণিক বার্তাকে জানান, বিকাল সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রাম শহর থেকে বাসায় ফেরার জন্য বাসে উঠলেও রাত ৮টা পর্যন্ত সিটি গেট এলাকায় পৌঁছতে পারেননি তিনি। স্বাভাবিক সময়ে এ পথ পাড়ি দিতে ৩০ মিনিটের বেশি লাগার কথা নয়। অবরোধ প্রত্যাহার হলেও যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করায় মহাসড়কে স্বাভাবিক গতি ফিরতে মধ্যরাত পেরিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।