ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে অনেকেই গোলযোগ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে: মির্জা ফখরুল

মন্ত্রী বলেন, আমি সাহিত্য ভালোবাসি, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ভালোবাসি, নজরুলের সাহিত্য ভালোবাসি। সব ধরনের সাহিত্যই আমি ভালোবাসি। কিন্তু আমি নিজে কিছু লিখতে পারি না। যে মানুষ সাহিত্যচর্চা করে, কবিতা শোনে, কবিতা লিখে অথবা গান শোনে, গান গায়—সে নিঃসন্দেহে ভালো মানুষ হয়

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্টরা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। অর্থনীতিকে বিদেশে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে। প্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মধ্যে চলমান পরিবর্তনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে, ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে অনেকে।

আজ বেলা ১২টার দিকে নওগাঁর পতিসর রবীন্দ্র কাছারি বাড়ি প্রাঙ্গণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমি সাহিত্য ভালোবাসি, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ভালোবাসি, নজরুলের সাহিত্য ভালোবাসি। সব ধরনের সাহিত্যই আমি ভালোবাসি। কিন্তু আমি নিজে কিছু লিখতে পারি না। যে মানুষ সাহিত্যচর্চা করে, কবিতা শোনে, কবিতা লিখে অথবা গান শোনে, গান গায়—সে নিঃসন্দেহে ভালো মানুষ হয়।’

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা দাপুটে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি ছিলেন এবং তিনি মুসলিম লীগ করতেন। প্রতিদিন সকালবেলা হাঁটতে বের হতেন, ফিরে এসে তিনি রবীন্দ্রনাথের “শাহজাহান” কবিতা আবৃত্তি করতেন। কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক, গান—সব ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের অবাধ বিচরণ ছিল। তিনি “গীতাঞ্জলি” লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমার প্রায় মনে হয়, রবীন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও পড়া শেষ হয় না। আমরা রাজনীতি করি, সারাজীবন রাজনীতির মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছি। আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, পরিচ্ছন্ন না। বারবার এখানে মানুষ পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে একটা হতাশাবাদী গোষ্ঠী আছে, তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়। আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাই না। আমি শুধু বলতে চাই, আমাদের মূল জায়গা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ। আমাদের স্বকীয়তা, আমাদের স্বতন্ত্র পরিচয়—আমরা বাংলাদেশী, এই কথাটা সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। নয় মাস যুদ্ধ করেছি। যুদ্ধ করেই স্বাধীনতা এনেছি। আবার গণতন্ত্রও লড়াই করেই ফিরিয়ে এনেছি।’

রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, জাতীয় সংসদের হুইপ ও সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-১ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের ফজলে হুদা, নওগাঁ-৪ আসনের ইকরামুল বারি টিপু ও নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু।

আরও