স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বান্দরবান জেলা কার্যালয়ের রাজস্ব আয় দুই বছরে প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে কমেছে প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়ও। নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা, যন্ত্রপাতি ভাড়া ও অন্যান্য সেবা থেকে আয় বাড়ার ফলে এ সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এলজিইডি বান্দরবান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা, যন্ত্র ও সরঞ্জাম ভাড়া এবং অন্যান্য খাত থেকে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আয় ছিল ৩ কোটি ৪৪ লাখ ৮৬ হাজার ৯২৮ টাকা। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একই খাতে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৫৪ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩৮ টাকায়, যা দুই বছর আগের তুলনায় ২৮৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ পরিচালন ব্যয় ছিল ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৫৮ হাজার ১০০ টাকা।
এলজিইডি জানায়, জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষার জন্য তাদের ল্যাবরেটরি ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি যন্ত্রপাতি ভাড়া, জরিমানা ও অন্যান্য সেবা থেকেও রাজস্ব আদায় বেড়েছে। অর্জিত সব রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।
বান্দরবান এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী (ল্যাব) হৃদয় দত্ত বণিক বার্তাকে বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বান্দরবান ও লামা পৌরসভা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা এলজিইডির ল্যাবরেটরিতে করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) প্রকৌশল শাখাও এ ল্যাবের সেবা নেয়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বান্দরবান কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, রড, বালি ও সিমেন্টের মান পরীক্ষা এলজিইডির ল্যাবেই করা হয়। তবে সেতু নির্মাণে ব্যবহৃত বেয়ারিং ক্যাপাসিটির মতো বিশেষায়িত পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ল্যাবরেটরির ওপর নির্ভর করতে হয়। ভবিষ্যতে নিজস্ব ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও জনবল সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী প্রতিপদ দেওয়ান বলেন, সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে রাজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ন্ত্রণ ল্যাবরেটরির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য রাজস্ব খাতেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্জিত সব রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে।