প্রশাসনে ঘন ঘন রদবদল, স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ

কোনো নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সচিবদের দপ্তর পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, কাজের ধারাবাহিকতা ও কর্মকর্তাদের কর্মপ্রেরণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে গত ১৬ জুন দায়িত্ব নেন মো. আতাউর রহমান খান। চার মাসের কিছু বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর ১৮ অক্টোবর তাকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়। একই দিন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীকে দেয়া হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সচিবসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অল্প সময়ের ব্যবধানে নিয়মিতভাবে রদবদলের ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনে ঘন ঘন রদবদলে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকে।

কোনো নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সচিবদের দপ্তর পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা। তবে অল্প সময়ের ব্যবধানে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বদলি প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, কাজের ধারাবাহিকতা ও কর্মকর্তাদের কর্মপ্রেরণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পদায়নের পর কাজের মূল্যায়ন কিংবা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দায়িত্ব বা দপ্তর পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে যৌক্তিক কারণ ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। ঘন ঘন বদলিতে কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজের গতিশীলতা ব্যাহত করতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনে দলীয়করণসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। দীর্ঘদিনের সেসব সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে জনমুখী, সুশৃঙ্খল, কর্মদক্ষ ও গতিশীল প্রশাসন তৈরিতে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ন্যায্যতা, যুক্তি ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সরকারের সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি, পদায়নসহ সব ধরনের রদবদলে মেধা ও কর্মদক্ষতাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘সরকারি কর্মজীবীদের বদলি-পদায়নে মেধা ও কর্মদক্ষতাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কোনো কর্মকর্তা এক দপ্তরে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করলে তাকে অন্যত্র সরিয়ে দেয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হয়। পেশাদার, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’

সরকারি কর্মজীবীদের বদলি, পদায়ন নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই সৎ, দক্ষ, মেধাবী সর্বোপরি পেশাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রশাসন সচল হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রশাসন আরো শক্তিশালী হবে —মো. আব্দুল বারী, প্রতিমন্ত্রী ,জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ১৮ অক্টোবর সচিব ও সচিব পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তার দায়িত্বে পরিবর্তন আনে সরকার। এর মধ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়াকে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব করা হয়েছে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলামকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবুল হাসানাত হুমায়ুন কবিরকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব করা হয়েছে। এছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুল আলম খানকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমিকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর ড. মো. কামরুজ্জামানকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব করা হয়েছে। এসব রদবদলে কর্মকর্তাদের মন্ত্রণালয় পরিবর্তনের পাশাপাশি পদোন্নতি, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব প্রদান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্তির বিষয়ও রয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত থাকা এক সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোয় সচিব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। কোনো কর্মকর্তাকে একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তাকে সেখান থেকে সরিয়ে অন্যত্র বদলি করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে এবং কাজের গতিও কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কর্মকর্তাদের কর্মস্পৃহা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।’

এর আগে গত ১৬ এপ্রিল বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব করা হয়। ওই সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খানকে চুক্তিতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব দেয়া হয়। দুই মাসের আগেই ৯ জুন তাকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। ১৭ জুন পদোন্নতি পেয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হন শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে ২৫ মে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি ১৬ জুন সে পদে যোগ দেন। দায়িত্ব গ্রহণের চার মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে তাকে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।

সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ঘন ঘন দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সচিবদের দপ্তর পরিবর্তন অস্বাভাবিক নয়। কর্মকর্তাদের কাজ পর্যবেক্ষণের পর সরকার মনে করতে পারে, কাউকে অন্য দপ্তরে পদায়ন করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে কিংবা কর্মদক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন উঠলে তাকে অন্য দায়িত্বে সরিয়ে দেয়া যেতে পারে। তবে শক্তিশালী যুক্তি ও যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়িত্ব থেকে সরানো উচিত নয়।’

সাবেক এ সচিব আরো বলেন, ‘জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে কর্মকর্তাদের সংযুক্ত করে রাখার প্রচলন দীর্ঘদিনের। সচিবদের ঘন ঘন বদলির চর্চাও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তাই এজন্য শুধু বর্তমান সরকারকে দায়ী করা ঠিক হবে না। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সময় প্রয়োজন। তবে দায়িত্ব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরকারের উচিত ন্যায্যতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া, যাতে কোনো কর্মকর্তার প্রতি অন্যায্য কিছু না হয়।’

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করে। এরপর সচিব পর্যায়ে প্রথম বড় ধরনের রদবদল হয় ২৩ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। একই দিনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা নয়জন সচিব ও জ্যেষ্ঠ সচিবের নিয়োগ বাতিল করে সরকার। এর মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের ছয়দিনের মাথায় প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এরপর ১ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদীকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।

পরে ২৫ মার্চ সচিব পর্যায়ে আরো ব্যাপক পুনর্বিন্যাস করা হয়। ওইদিন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নয়জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিয়ে সচিব পদে নিয়োগ দেয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব পর্যায়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৬ আগস্ট জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে চারটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব পর্যায়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ওইদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জেসমিন নাহারকে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব নিয়োগ করা হয়। একই মন্ত্রণালয়ের বিদায়ী সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে বদলি করা হয়। অন্যদিকে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. জিয়াউল হককে সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে একই বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব মো. ওবায়দুর রহমানকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি এর আগে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এ পদে তার পূর্বসূরি মো. নজরুল ইসলাম ৩০ জুলাই স্বাভাবিক চাকরির মেয়াদ শেষে অবসরোত্তর ছুটিতে যান। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেনকে সংযুক্ত করার মাধ্যমে ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়। সব মিলিয়ে এদিন দুটি পদোন্নতি, দুটি সচিব পদে বদলি এবং একজন সচিবকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অল্প সময়ের ব্যবধানে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের রদবদলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কাজের ধারাবাহিকতা, কর্মকর্তাদের কর্মপ্রেরণায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদিক হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এভাবে বদলি করায় মনে হচ্ছে, সরকার কিছুটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। কোথায় কাকে দায়িত্ব দিলে সরকারের নীতিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, তা বোঝার চেষ্টা চলছে। তবে সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়ার আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বিচার-বিশ্লেষণ যথাযথভাবে করা হচ্ছে কিনা, সে প্রশ্ন রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রস্তুতির ঘাটতি থাকতে পারে, যে কারণে নিয়োগের পর আবার দায়িত্ব পরিবর্তন করতে হচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ঘন ঘন বদলিতে জনপ্রশাসনের কাজে ব্যাঘাত ঘটে এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও অস্বস্তি তৈরি হয়। তারা কত দিন একটি দায়িত্বে থাকতে পারবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাজে পুরোপুরি মনোযোগ দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বদলি জনপ্রশাসনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও সচিব পর্যায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তন প্রশাসনে গতিশীলতা অনায়নে বাধা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, সচিব পদমর্যাদার অনেক কর্মকর্তাকে দীর্ঘ সময় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করে রাখাও ভালো ফল দেবে না। কারণ, এ ধরনের সংযুক্তিতে কর্মকর্তাদের কার্যত কোনো দায়িত্ব থাকে না, যা অনেকটা ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে রাখার মতো।

প্রশাসনে ঘন ঘন রদবদল বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারি কর্মজীবীদের বদলি, পদায়ন নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মাঠ প্রশাসন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই সৎ, দক্ষ, মেধাবী সর্বোপরি পেশাদার কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রশাসন সচল হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রশাসন আরো শক্তিশালী হবে।’

আরও