তদন্তে ডিলারের বিরুদ্ধে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সার বিক্রি না করে অন্য মাধ্যমে বিক্রি, বিক্রির রসিদ বইয়ে ঘষামাজা এবং কৃষকদের চাহিদামতো সার সরবরাহ না করাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তদন্ত কমিটি গতকাল সন্ধ্যার পর ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদনটি জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিলার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সার বিক্রি না করে অন্য মাধ্যমে সার বিক্রি করেছেন। এছাড়া বিক্রির রসিদ বইয়ে ঘষামাজা করার প্রমাণও পাওয়া গেছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার বিক্রি না করাসহ আরো কয়েকটি অনিয়মের বিষয়ও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
এর আগে গত রোববার রাতে গুদাম ভেঙে কৃষকদের সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন। তদন্ত শেষে কমিটি অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে।
প্রসঙ্গত, রোববার সকালে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার তাইফুর রহমান মুকুলের গুদামের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল একজন কৃষকের নাম দিয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় জিডি করেছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, তারা কয়েক দিন ধরে ডিলারের কাছে সার চেয়েও পাননি। গুদামে চার কিস্তিতে ১ হাজার ৩৬০ বস্তা সার থাকার কথা থাকলেও বিতরণের সময় ৩৪০ বস্তা সার দেয়ার কথা জানানো হয়।
এ নিয়ে দুই শতাধিক কৃষকের মধ্যে হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন কৃষক গুদামের দরজা ভেঙে সার নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে।
কৃষকদের দাবি, ডিলার গোপনে সার বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। এতে তারা ন্যায্য দামে সার না পেয়ে বেশি দামে খোলাবাজার থেকে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল। তার দাবি, এক ব্যক্তির উসকানিতে কৃষকরা দলবদ্ধ হয়ে গুদামের দরজা ভেঙে ২০২ বস্তা সার নিয়ে যান। এর মধ্যে ১০৭ বস্তা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।