এক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ধরা হয়েছে ১৯ দশমিক ৭৭ ডলার। গতকাল অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে একই কোম্পানির কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ দশমিক ৩৭ ডলার হিসেবে এক কার্গো এলএনজি কিনেছিল বাংলাদেশ। গত মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধের প্রভাবে অঞ্চলটি থেকে জ্বালানি সরবরাহ প্রায় বন্ধ রয়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে সব ধরনের জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে গত বছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দাম দিয়ে এবার এলএনজি কিনতে হচ্ছে।
গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলে তাতে অনুমোদনের সুপারিশ করে কমিটি। প্রতি কার্গো ৮৩৩ কোটি ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার ৫১২ টাকা করে দুই কার্গো এলএনজি কিনতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৬৬৬ কোটি ৭৯ লাখ ১৩ হাজার ২৪ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৭৭ ডলার। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি-১০৫(৩) (ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে চলতি বছরের ২৪-২৫ এপ্রিল ও ২৭-২৮ এপ্রিল সময়ের জন্য এ দুই কার্গো এলএনজি কেনা হচ্ছে।
এর আগে গত বছরের ৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির সভায় একই কোম্পানির কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ১০ দশমিক ৩৭ ডলার হিসেবে ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকায় এক কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছিল। অবশ্য গত ১১ মার্চ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্পট মার্কেট থেকে যে তিন কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছিল তার চেয়ে এবার কিছুটা কমে এলএনজি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সে সময় টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২১ দশমিক ৫৮ ডলার হিসাবে ৯০৭ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩০৪ টাকায় এক কার্গো এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পসকো ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২০ দশমিক ৭৬ ডলার হিসাবে ১ হাজার ৭৪৬ কোটি ৬৯ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭৬ টাকায় দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।
স্বাভাবিক সময়ে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি ১০-১১ ডলারে কেনা হলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রথমদিকে স্পট মার্কেট থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৪-২৮ ডলারে এলএনজি কিনেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়ার কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ সাড়ে ২৪ ডলার এবং গানভরের কাছ থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ ২৮ ডলার করে দুই কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছিল। সে হিসেবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ হলেও সাম্প্রতিক সময়ের চেয়ে কিছুটা কম দামে গতকাল এলএনজি কেনার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।