পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে প্রতি বছরই পর্যটকে কানায় কানায় পরিপূর্ণ থাকে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। অবশ্য এ বছরের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। পর্যটকের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সৈকতজুড়ে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বিরাজ করছে এমন অবস্থা। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা। প্রত্যাশিত অতিথি না আসায় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য সেবা খাতের অনেক উদ্যোক্তাই পড়েছেন আর্থিক সংকটে। তবে সংখ্যায় কম হলেও যেসব পর্যটক সৈকতে এসেছে, তারা সমুদ্রের জলে আনন্দ উচ্ছ্বাসে মেতেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখছে। আবার অনেকে খালি পায়ে সৈকতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে হেঁটে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছে।
ডাব ও চা বিক্রেতা স্বপন মিয়া বলেন, ‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে প্রতি বছরই সৈকতে হাজার হাজার পর্যটক থাকে। কিন্তু এ বছর সৈকতে ২০০ পর্যটকও নেই। খালি পড়ে আছে সৈকতের বেঞ্চগুলো। সকাল থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ২০০ টাকা বিক্রি করেছি। নির্বাচনের শুরু থেকে প্রায় ১৫ দিন পর্যন্ত এ অবস্থা বিরাজ করছে। আমরা অনেকটা লোকসানে পড়েছি।’
আচার ও কসমেটিকস পণ্য বিক্রেতা সুলতান আকন বলেন, ‘প্রায় ১৫ দিন ধরে পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা। সুনসান নীরবতায় কাটছে আমাদের দিন। সামনে আবার আসছে রোজা। তখনো পর্যটকশূন্য থাকবে কুয়াকাটা। প্রতিদিন আমরা লোকসান গুনছি। রমজানেও তেমন বিক্রি থাকবে না। এভাবে পর্যটক না থাকলে আমরা ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারব না।’
ব্যবসায়ী মো. ইয়াসিন বলেন, ‘নির্বাচনের কারণে দুই সপ্তাহ ধরে কুয়াকাটায় পর্যটক একেবারে নেই বললেই চলে।’
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোতালেব শরীফ জানান, নির্বাচনের কারণে তেমন পর্যটক নেই। রমজানের কারণে সামনে আরো কমে যাবে।
কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, ‘বর্তমানে পর্যটক নেই বললেই চলে। পর্যটকদের সেবায় পৌর প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও মহীপুর থানা পুলিশ নিয়োজিত রয়েছে।’