বাজার রক্ষাবাঁধ নির্মাণের জন্য বন্ধ ৮টি ড্রেন

এক মাস ধরে পানিবন্দি শরণখোলার তিন শতাধিক পরিবার

ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বৃষ্টির পানিতে শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা বাজার ও আশপাশে বসবাসকারী তিন শতাধিক পরিবার এক মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পান বৃষ্টির পানিতে শরণখোলা উপজেলা সদরের রায়েন্দা বাজার আশপাশে বসবাসকারী তিন শতাধিক পরিবার এক মাস ধরে

পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বাগেরহাটের নির্মাণাধীন রায়েন্দা বাজার রক্ষাবাঁধের আটটি ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় জলাবদ্ধতা আরো দীর্ঘ হয়েছে।

এদিকে পানিবন্দি থাকার কারণে রান্নাবান্না বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ পরিবারের। এতে অনাহারে দিন কাটছে তাদের।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে জমে থাকা পানিও দূষিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ প্রয়োজনে দূষিত পানি কাদা মাড়িয়ে যেতে হয় বাইরে। এতে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ারও ঝুঁকি বাড়ছে স্থানীয়দের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পান আম্পান-পরবর্তী বৃষ্টির পানিতে ওই এলাকা তলিয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাটের রায়েন্দা বাজার রক্ষাবাঁধ নির্মাণ করছে। এজন্য আটটি ড্রেনের মুখ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে এক মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলা সদরের রায়েন্দা বাজার আশপাশের বসবাসকারী তিন শতাধিক পরিবার।

ওই এলাকার শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, আমরা রায়েন্দা সরকারি পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পেছন থেকে সরকারি খাদ্যগুদাম পর্যন্ত তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছি। নারী শিশুরা গৃহবন্দি অবস্থায় আছে। সেপটিক ট্যাংক ডুবে যাওয়ায় মানববর্জ্যের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। জীবিকার তাগিদে ময়লা পানি মাড়িয়ে বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে বের হতে হচ্ছে আমাদের। আমরা রান্না-বান্না, গোসল পর্যন্ত করতে পারছি না। ময়লা পানি শরীরে লেগে আমাদের অনেকের শরীরে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, রায়েন্দা খালের পাশ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ থেকে পানি নিষ্কাশনের পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যেভাবেই হোক, অবস্থার নিরসন চাই আমরা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জালাল আহম্মেদ রুমি জানান, বেড়িবাঁধের কাজের কারণে অনেক ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত ড্রেন নির্মাণ না করলে সমস্যার সমাধান হবে না।

রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, একটি পয়েন্ট থেকে পাইপ দিয়ে পানি নামানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। আটকে থাকা পানি বের করার জন্য আরো বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মূলত বেড়িবাঁধের সঙ্গে ১০টি ড্রেন করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা এখনো নির্মাণ করছে না। এগুলো নির্মাণ হয়ে গেলে সমস্যা আর থাকবে না।

উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্পের (সিইআইপি) কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, সিএইচডব্লিউ নামে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বর্ষা মৌসুমে কাজ করে না। তাই অধিকাংশ কর্মী ছুটিতে নিজ দেশে চলে গেছেন। আর যারা আছেন, তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে বের হচ্ছেন না। তার পরও তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়ে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

পানিবন্দি থাকার বিষয়টি স্বীকার করে শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, পানিবন্দি এলাকা আমি সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ প্রকল্প কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

 

আরও