বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের সম্পদ লুটপাট করে পরাজিত ফ্যাসিবাদের দোসররা বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থান করেও তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। জনগণের স্বার্থবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতনের শিকার অসহায় নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী বলেন, পতিত সরকার চাকরি ও কৃষি উপকরণ দেয়ার নামে সাধারণ মানুষকে নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন করেনি। অন্যদিকে, বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলনে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মী ও তাদের পরিবারের অবদান ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করা রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বের অংশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে বিগত রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার বিএনপির অসহায় নেতাকর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নগদ অর্থসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা বিতরণ করা হয়। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়ন এবং তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে সেলাই মেশিন দেয়া হয়। পাশাপাশি আবাসন সংকটে থাকা কয়েকটি পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য সহায়তা দেয়া হয়।
আয়োজকেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে অনেক নেতাকর্মী নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের কেউ আর্থিক সংকটে পড়েছেন, আবার কেউ স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারকে আর্থিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন উপকারভোগীরা। তারা জানান, আর্থিক সহযোগিতা ও সেলাই মেশিন তাঁদের পরিবারের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নতুন করে আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ঘর নির্মাণের সহায়তা পাওয়া পরিবারগুলো নিরাপদ আবাসনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।