একই সঙ্গে জ্বালানি তেল বিপণনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতেও কাজ করছে বাহিনীটি। গতকাল বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করতে প্রতিটি পেট্রল পাম্পের জন্য একজন ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গণমাধ্যমে গতকাল দুপুরে পাঠানো বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ সাদেক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারিভাবে নিয়োগ দেয়া ট্যাগ অফিসাররা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করবেন ও দৈনিক প্রতিবেদন দেবেন। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করবে বিপিসি। এছাড়া বাকি জেলা ও বিভাগীয় শহরে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রতিটি পেট্রল পাম্পের জন্য একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করবেন বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে পৃথক এক বার্তায় দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি তেল ক্রয় বা মজুদ না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে অবৈধ মজুদকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরকার প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল কিনছে বলেও জানানো হয়।
জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা ও সংকট মোকাবেলায় ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বিপিসি। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল সংগ্রহের সময় ২ ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। গত শুক্রবার জারি করা এ নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। নির্দেশনাটি বিপিসির অধীন বিপণন কোম্পানিগুলোকে গতকাল দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।
এর আগে ডিলাররা বেলা ১১টা থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারতেন। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোকে দৃশ্যমান স্থানে ব্ল্যাক বা হোয়াইট বোর্ডে দৈনিক জ্বালানি তেল গ্রহণের তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় ইউনিট সদর দপ্তর থেকে দূরে অস্থায়ী বেজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে তদারকি, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি আরো জানিয়েছে, ২৫ মার্চ সকাল থেকে ঢাকা জেলার একটি, কুড়িগ্রামের দুই, রংপুরের তিন, রাজশাহীতে তিন, সিলেটে দুই, মৌলভীবাজারে তিন, কুমিল্লায় তিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক ও সুনামগঞ্জ জেলায় একটি ডিপো অর্থাৎ মোট নয়টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অবৈধ জ্বালানি মজুদ ও বিক্রি প্রতিরোধ এবং নাশকতা ঠেকাতে ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে অতিরিক্ত টহল, নৌ-টহল, চেকপোস্টে তল্লাশি এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। আমদানি-রফতানিতে ব্যবহৃত ট্রাক, লরিসহ বিভিন্ন যানবাহনেও নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।