কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্ত্রী, সাত বছরের ছেলে ও চার শ্যালক-শ্যালিকাকে হারিয়েছেন নুর আলম। চাকরির সুবাদে চুয়াডাঙ্গায় বসবাসরত এ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের শনিবার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তাদের ফেরার অপেক্ষায় থাকা পরিবারের ভাড়া বাসায় এখন ঝুলছে তালা।
নুর আলম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মেডিকেল প্রমোশন অফিসার (এমপিও) হিসেবে কর্মরত তিনি। চাকরির সুবাদে স্ত্রী ফারিহা কবির ও ছেলে ফায়িজান আহম্মেদকে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় আট বছর ধরে বসবাস করছিলেন।
নুর আলমের বরাতে জানা গেছে, গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্ত্রী, সাত বছরের ছেলে, তিন শ্যালিকা ও এক শ্যালককে নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে যান তিনি। অফিসের কাজ থাকায় গতকাল শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পরিবারের সদস্যদের সেখানে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। শনিবার তাদের কক্সবাজার থেকে ফেরার কথা ছিল। তবে সকালে তারা যে রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন, সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় স্বজনের মৃত্যুর খবর পান তিনি। খবর পেয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন নুর আলম।
মুঠোফোনে নুর আলম বলেন, ‘শনিবার তাদের ফিরে আসার কথা ছিল। কীভাবে আগুন লাগল জানি না। আমার স্ত্রী, সন্তানসহ পরিবারের ছয়জন মারা গেছে। এর বেশি কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই।’
নুর আলমের একমাত্র ছেলে ফায়িজান আহম্মেদ চুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রদীপন মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
শনিবার বিকালে দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ায় নুর আলমের ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির তৃতীয় তলার কক্ষটি তালাবদ্ধ। আট বছর ধরে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে যে বাসায় সংসার করছিলেন তিনি, তাদের অনুপস্থিতিতে সেখানে নেমে এসেছে নীরবতা।
বাড়ির মালিক হারুন আর রশিদ বলেন, নুর আলম প্রায় আট বছর ধরে তার বাড়ির তৃতীয় তলায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকেন। তারা অত্যন্ত ভালো মানুষ। ঘটনার খবর পেয়ে নুর আলম ঢাকায় শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছেন। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফিরোজ কবির বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন, নিহতদের মধ্যে মা ও ছেলে চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা। বাকি চারজন তাদের আত্মীয়স্বজন হতে পারেন।