দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখনই সফরের জন্য উপযুক্ত সময় মনে করবেন, তখনই সফর হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এর আগে যা আলোচনা হয়েছে, তার সঙ্গে নতুন করে বেশি কিছু যোগ করার নেই। ভারতের আমন্ত্রণ উন্মুক্ত রয়েছে, তবে এ নিয়ে এখন কোনো তাড়াহুড়ার প্রয়োজন নেই।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এর আগে যা আলোচনা হয়েছে, তার সঙ্গে নতুন করে বেশি কিছু যোগ করার নেই। আমি আবারো বলছি, আমাদের আমন্ত্রণ উন্মুক্ত রয়েছে। তবে আমার মনে হয় না, এ নিয়ে এখন কোনো তাড়াহুড়ার প্রয়োজন আছে। যখন সময় হবে, নিশ্চয়ই সফর হবে। সবকিছুই অত্যন্ত ইতিবাচক।’
তিনি বলেন, ‘তবে আমাদের উপযুক্ত সময় দিতে হবে। একটা সময়ের মধ্যে সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাবে। এ নিয়ে কোনো প্রশ্নই নেই। আমি ইতিবাচক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীও ইতিবাচক, বাংলাদেশের জনগণও ইতিবাচক। আমি যখন রাস্তায় হাঁটি এবং মানুষের সঙ্গে কথা বলি, তখনো সবকিছু ইতিবাচকই দেখি।’
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘দুই পক্ষেরই কিছু রাজনৈতিক বাস্তবতা রয়েছে। সেগুলোও সময়ের সঙ্গে সমাধান হয়ে যাবে। বিষয়গুলো এখন প্রক্রিয়াধীন। সবকিছুই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে যাবে। সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ইতিবাচক। আমি নিশ্চিত এবং আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী যে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যখনই সফরের জন্য উপযুক্ত সময় মনে করবেন, তখনই তা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আজ কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি। আজকের সাক্ষাৎটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে আমি তাকে অভিনন্দন জানাতে এসেছিলাম। তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকেও আমার শুভেচ্ছা জানিয়েছি।’
সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আজকে ভারতের হাইকমিশনার আসছিলেন। আমার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পরে এ প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ।’
বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে, অত্যন্ত আন্তরিক, খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। অবশ্যই কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। চ্যালেঞ্জ আমরা সংলাপের মাধ্যমে, আলোচনার মাধ্যমে অতিক্রম করব। আমরা আশাবাদী যে আমরা এসব চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পারব। আর অবশ্যই কিছু বিষয় রয়েছে, কোনো একটি অনুকূল সময়ে আমরাও প্রধানমন্ত্রীর সফর হতে পারে।’
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ওইরকম কিছু আলাপ হয়নি। এটা পুরোপুরি সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ছিল। এখানে সফর নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে ইতিবাচক। কিছু চ্যালেঞ্জ আছে, সেগুলো আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করছি। ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।’
সফরের সময় নির্ধারণ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সময় তো পরে। তখন আমরা আলোচনার মাধ্যমে যখন একটা পারস্পরিক জায়গায়, মানে যখন সফরের জন্য অনুকূল হবে, তখন তো আমরা তারিখ-সময়ের ব্যাপারে আলোচনা করব।’
নভেম্বরের একটি সময়ের কথা শোনা যাচ্ছে, এমন তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গুঞ্জন নিয়ে তো আমি আলাপ করতে পারি না। আমি তো বাস্তবতা নিয়ে কথা বলি। বাস্তবতা হচ্ছে, আমাদের আজ খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। আমি খুবই ইতিবাচক যে আমরা অদূর ভবিষ্যতে ইতিবাচক ফলাফল পেতে পারি। আর চ্যালেঞ্জ তো আছেই, বলছি আপনাদেরকে আগে। চ্যালেঞ্জে কথাবার্তার মাধ্যমেই তো অতিক্রম করব। আমরা সফর করব, যখন পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে পরিবেশ অনুকূল হবে।’