কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার বিচার ও চার দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে এক মিনিট নীরবতা পালনের পর তারা মৌন মিছিল করেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ অনুষদের সামনে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেখান থেকে মৌন মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি শহীদ আব্দুল কাইয়ুম চত্বর হয়ে আইন অনুষদ প্রদক্ষিণ করে আবার একই চত্বরে এসে শেষ হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেফতার করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ ও ফাঁসির রায় কার্যকর করা, কুমিল্লার পুলিশ সুপার ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়ার ইউনিট গঠন করা।
বাংলা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারহা খানম বলেন, এত দিন তারা বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করেছেন। এবারের কর্মসূচি মূলত শোক প্রকাশ ও প্রতিবাদের নীরব ভাষা হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে চার দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য তারা আবারো অবস্থান নিয়েছেন। ঘটনার প্রথম দিন থেকেই দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি বলে তিনি জানান।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাব্বানী বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে আসামিদের গ্রেফতার করা হলেও এখনো বিচার নিশ্চিত হয়নি। শুরু থেকেই পুলিশের উদাসীনতা তারা দেখছেন বলে এ সময় তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি আসামিদের বয়স নিয়ে কোনো অনিয়ম বা অসঙ্গতি আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক বয়স নির্ধারণ করে উপযুক্ত শাস্তি ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান রাব্বানী।
এর আগে গতকাল সোমবার একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। তার আগের দিন রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) চার দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে সড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
কুমিল্লার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, পুলিশ সুপার ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবির বিষয়ে তারা অবগত। অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের একাধিক দল রাতভর মাঠে কাজ করেছে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরা হয়েছে।
পুলিশ জনবান্ধব এবং কারো বিরুদ্ধে নয় উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি ছিল না। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়টি কুমিল্লার মানুষ কখনো মেনে নেবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।