দেশে এখনো ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের ঘাটতিতে ভুগছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদনে লবণ উৎপাদনকারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়নে বিসিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে লবণ উৎপাদনকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধকরণের উদ্যোগ নিতে বিসিকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আয়োডিনের ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন।

দেশে এখনো ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনের ঘাটতিতে ভুগছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। এ সমস্যা সমাধানে আয়োডিনযুক্ত লবণের শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) ভবনে বিশ্ব আয়োডিন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত ‘বুদ্ধিদীপ্ত জাতি গঠনে আয়োডিনের গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদনে লবণ উৎপাদনকারী ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট আইন বাস্তবায়নে বিসিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াতে লবণ উৎপাদনকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও উদ্বুদ্ধকরণের উদ্যোগ নিতে বিসিকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে আয়োডিনের ঘাটতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দেন।

বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, গেইন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকার, এনআই বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. এ কে এম মুসা এবং বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ গুলজারুল আজিজ আয়োডিনের গুরুত্ব নিয়ে একটি উপস্থাপনা দেন।

সভাপতির বক্তব্যে বেনজীর আহমেদ বলেন, লবণ খাতকে শক্তিশালী করতে দক্ষ জনবল তৈরি ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিক। সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে আয়োডিনযুক্ত লবণের বাজারজাতকরণে প্রতিষ্ঠানটি অঙ্গীকারবদ্ধ। মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিতে বিসিকের পরিচালনা পর্ষদ, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কাজ করছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে আয়োডিন অত্যাবশ্যকীয় অনুপুষ্টি। এর ঘাটতিতে গলগণ্ড, বুদ্ধিবিকাশে প্রতিবন্ধকতা, শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, অকাল গর্ভপাতসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। ১৯৯০ সাল থেকে সরকার শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় বিসিকের মাধ্যমে সর্বজনীন আয়োডিনযুক্ত লবণ উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ কার্যক্রমের আওতায় লবণ মিল নিবন্ধন, পটাশিয়াম আয়োডেট সরবরাহ, লবণের মান নিয়ন্ত্রণ, কারিগরি সহায়তা এবং মিল ও বাজার পর্যায়ে তদারকি করা হয়।

বিসিকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ৮৮ শতাংশ পরিবার আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার করছে। এ কার্যক্রমের ফলে দৃশ্যমান গলগণ্ড নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে কোনো দেশের অন্তত ৯০ শতাংশ মানুষের আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয় বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। সে হিসাবে বাংলাদেশকে এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে আরও ২ শতাংশ পরিবারকে আয়োডিনযুক্ত লবণ ব্যবহারের আওতায় আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, লবণ মিলমালিক, ভোক্তা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও