শি-তারেক বৈঠক

নতুন যুগে যৌথ ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি গঠনের ঘোষণা

চীনা প্রেসিডেন্ট জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সৌহার্দ্য, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির নীতি অনুসরণ করছে চীন। বাংলাদেশের নতুন সরকারের শাসন কার্যক্রমে সমর্থন জানিয়ে দেশটির সঙ্গে উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এগিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছে বেইজিং।

‘নতুন যুগে যৌথ ভবিষ্যতের চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছে বন্ধুপ্রতীম দুই দেশ। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই নেতা যৌথভাবে এ ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা, কৌশলগত যোগাযোগ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন তারা।

শি জিনপিংকে উদ্ধৃত করে এতে বলা হয়, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নকে চীন সবসময় গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ নীতিতে অটল রয়েছে। বিশ্বের পরিস্থিতি যেভাবেই পরিবর্তিত হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সামগ্রিক ধারাবাহিকতা থেকে সরে আসবে না বেইজিং। বাংলাদেশকে চীন বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সমর্থন করে চীন। একই সঙ্গে শাসনব্যবস্থাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা বিনিময়, বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি, কৌশলগত সংলাপ জোরদার এবং উভয় দেশের মূল স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখতে আগ্রহী বেইজিং।

চীনা প্রেসিডেন্ট জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সৌহার্দ্য, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির নীতি অনুসরণ করছে চীন। বাংলাদেশের নতুন সরকারের শাসন কার্যক্রমে সমর্থন জানিয়ে দেশটির সঙ্গে উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এগিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছে বেইজিং। পাশাপাশি উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয়, সবুজ ও নিম্ন-কার্বন উন্নয়ন, ডিজিটাল অর্থনীতি, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধানের কথাও উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণের পাশাপাশি আঞ্চলিক সংযোগ বাড়াতে চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরের উন্নয়ন এগিয়ে নিতে আগ্রহী চীন।

এছাড়া জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে সমতা ও শৃঙ্খলাভিত্তিক বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দুদেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে গ্লোবাল সাউথের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে চীনের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে এবং দেশটি বাংলাদেশের মূল্যবান ও বিশ্বস্ত অংশীদার। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘নতুন যুগে যৌথ ভবিষ্যতের কমিউনিটি’ পর্যায়ে উন্নীত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীনের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয়। বাংলাদেশ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা এগিয়ে নেয়া এবং অর্থনীতি, বাণিজ্য, সংযোগ, কৃষি, প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশ ‘এক চীন’ নীতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। তাইওয়ানকে চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পাশাপাশি ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতা’ সংশ্লিষ্ট যেকোনো উদ্যোগের বিরোধিতার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭৫৮ নম্বর প্রস্তাবের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবজাতির জন্য যৌথ ভবিষ্যতের কমিউনিটি গঠন এবং শি জিনপিংয়ের প্রস্তাবিত চারটি বৈশ্বিক উদ্যোগ বিশ্ব শান্তি, উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে চীনের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহও প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই উপস্থিত ছিলেন।

আরও