যশোর সদর হাসপাতাল

অনুমোদনের ছয় বছর পরও নির্মাণ হয়নি মাল্টিপারপাস ভবন

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, চারতলা মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি)।

অনুমোদনের দীর্ঘ ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নির্মাণ হয়নি মাল্টিপারপাস ভবন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ভবনটির নির্মাণকাজ শুরুর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষের দীর্ঘসূত্রতায় রোগী, তাদের স্বজন ও চিকিৎসকদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীর চাপ বাড়ায় হাসপাতালটিকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে। নতুন চাহিদাপত্রে আবারো মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, চারতলা মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (এইচইডি)। ২০১৯ সালের অক্টোবরে তাদের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি দাপ্তরিক চিঠি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তৎকালীন উপপ্রধান আনিসুর রহমান স্বাক্ষরিত সে অনুমোদনপত্রে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনটি ভেঙে সেখানে মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণের নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্দেশনায় একই বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে মূল নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল।

উপপ্রধানের স্বাক্ষর করা ওই অনুমোদনপত্র ও নকশা অনুযায়ী মাল্টিপারপাস ভবনের একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছিল। ভবনের নিচতলায় রাখা হয়েছিল রোগীর স্বজনদের জন্য বসার স্থান, একটি আধুনিক ক্যান্টিন, মনোহারি দোকান ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ফার্মেসি। প্রথম তলায় একটি বড় ড্রাগ স্টোর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় কনিষ্ঠ ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আবাসনের জন্য সিঙ্গেল রুম ও ডরমিটরির ব্যবস্থা রাখার কথা ছিল। আর চতুর্থ তলায় জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের জন্য স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট তৈরির পরিকল্পনা ছিল।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই হাসপাতালের দ্বিতল ভবনের ছাদ ও দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়। একই সময়ে ভবনটির গ্রিলের একটি বড় অংশ নিচের দিকে ডেবে যায়। ভবনটিতে পুরুষ সার্জারি, অর্থোপেডিক, গাইনি ও মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড ছিল। পরদিন ২৮ জুলাই ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবন পরিদর্শনে আসেন গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা। দুর্ঘটনা এড়াতে ভবনের ছাদ বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঠেকিয়ে দেয়া হয়। পরে গণপূর্ত বিভাগের নকশা বিশেষজ্ঞ দল ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকার পর ২০২৫ সালে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। বর্তমানে সে জায়গা খালি পড়ে আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সমন্বিত ভবন নির্মিত হলে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান অনেক বৃদ্ধি পেত। একই সঙ্গে চিকিৎসক, রোগী ও স্বজনদের আবাসন এবং প্রাত্যহিক নানা ভোগান্তি লাঘব হতো। তবে দীর্ঘ ছয় বছরেও ভবন নির্মাণের কাজ শুরু না হওয়ায় চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। তারা দ্রুত ভবনটি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আহসান কবির বাপ্পি জানান, মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বর্তমান সংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। এটি চালু হলে আমাদের নিচতলার ১৬টি কক্ষ ছাড়তে হবে। এর ফলে বহির্বিভাগে রোগী দেখার ক্ষেত্রে সংকট দেখা দেবে। বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে আমরা জরুরি ভিত্তিতে একটি আউটডোর কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। হাসপাতালের সংক্রামক ওয়ার্ডের খালি জায়গায় এটি নির্মিত হবে।’

গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, গত ৮ আগস্ট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সরজমিন পরিদর্শনে আসেন। ওই সময় রোগীদের অতিরিক্ত চাপের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালটি ৫০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এরই মধ্যে ৫০০ শয্যার নতুন একটি চাহিদাপত্র তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে স্থগিত থাকা মাল্টিপারপাস ভবনটি আবারো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, বর্তমানে বহির্বিভাগের চাপ সামলাতে আউটডোর কমপ্লেক্স নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে এর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ মাসেই নির্মাণকাজ শুরু হবে।

সার্বিক বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাফায়েত হোসাইন বলেন, ‘আমাদের ২৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন চার শতাধিক রোগী ভর্তি থাকে। এছাড়া বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে কয়েক হাজার মানুষ আসে। পাশের জেলাগুলো থেকেও রোগীরা এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। এজন্য হাসপাতালের পরিধি বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে ৫০০ শয্যার জন্য চাহিদাপত্র তৈরি করা হয়েছে। সে চাহিদাপত্রে মাল্টিপারপাস ভবনও যুক্ত করেছি।’

আরও