নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ন্ত্রণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংক খাতে সুশাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং মব সহিংসতা ও চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। একই সঙ্গে জুলাই সনদ ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সময়াবদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানান তারা।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের (সিআইপিজি) আয়োজনে ‘সরকারের ৬ মাস: প্রত্যাশা, প্রাপ্তি ও ঘাটতির মূল্যায়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব দাবি জানান। অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার, আইন-শৃঙ্খলা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, বৈষম্য ও নিপীড়নমুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিল। সেই প্রত্যাশা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, তা এখন মূল্যায়নের সময়। ছয় মাস একটি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য যথেষ্ট না হলেও সরকারের নীতি, অগ্রাধিকার ও বাস্তবায়নের গতিপথ বোঝার জন্য এ সময় যথেষ্ট।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. আবু আহমেদ বলেন, ‘দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে কৃষি কার্ড বা ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগ থেকে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না। ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ায় ব্যাংকগুলো তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সরকারি ঋণে আগ্রহী হচ্ছে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’
মূল প্রবন্ধে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড পিস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত ছয় মাসে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রেমিট্যান্স ও রফতানিতে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ মূল্য সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রায় কতটা স্বস্তি ফিরেছে, সেটিকেও অর্থনৈতিক সাফল্যের অন্যতম মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
আলোচনা শেষে সরকারের আগামী দিনের কার্যক্রমে পাঁচটি অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান জানায় সিআইপিজি। এগুলো হলো মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, মব সহিংসতা-চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে উদ্যোগ, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জুলাই সনদ ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সময়াবদ্ধ রোডম্যাপ প্রকাশ।