সংস্কারের নামে নির্বাচন ঝুলিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই: নজরুল ইসলাম খান

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ড. ইউনূস নিঃসন্দেহে একজন গুণী মানুষ। তার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ নেই। কিন্তু নাতির বয়সী উপদেষ্টা ও পরামর্শকদের কারণে উনি কিছু ভুল করছেন। এটা সংশোধন হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বতর্মান সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর অর্থ এটি অস্থায়ী সরকার। জনগণ চায় স্থায়ী সরকার। তাই সংস্কারের নামে নির্বাচন ঝুলিয়ে রাখার কোনো সুযোগ নেই। আমরা ২০২৩ সালেই প্রথম ৩১ দফার সংস্কার প্রস্তাব উত্থাপন করেছি। বর্তমান সরকার ওই ৩১ দফার বাইরে সংস্কারের জন্য নতুন কোনো দফাই বের করতে পারেনি। তাই সংস্কার সংস্কার করে যে দল নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত নয়, তাদের জন্য কেন নির্বাচন পেছানো হবে? আমরা মনে করি ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করা সম্ভব।

শনিবার (২৪ মে) বিকাল ৩টায় বগুড়া শহরের সূত্রাপুর সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশের আয়োজক ছিল যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচন কমিশনও এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে তারা চলতি বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও নির্বাচিত সরকারের জন্য একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা আশাহত হয়েছি। এরশাদের জন্য গণতন্ত্রের প্রতি আঘাত এসেছে। এক-এগারোর জন্য গণতন্ত্র ব্যাহত হয়েছে। এরপর টানা ১৫ বছর আমরা ডান, বাম, মধ্যপন্থা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি। হাসিনার গদি যখন টলটলায়মান তখন জুলাই বিপ্লবে সফলতা এসেছে। গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আমরা ড. ইউনূস সরকারকে স্বাগত জানিয়েছি। সমর্থন জানিয়েছি। সহযোগিতা করেছি। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে তালবাহানা করছে, তাতে আমরা নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা বোধ করছি।

তিনি বলেন, যদি গণতন্ত্র, বাক স্বাধীনতা ও নির্বাচিত সরকার না পাই, তাহলে জুলাই আন্দোলনের রক্ত ও আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারে। তবে চট্রগ্রাম, খুলনা ও বগুড়ায় তিনটি সেমিনারে তারুণ্যের সমাবেশে বিশাল উপস্থিতি আমাকে আশাবাদী করেছে। আমাদের জুলাই আন্দোলন, রক্তদান, আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না। তারুণ্যের এ সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যয়ের ঐতিহাসিক মিলনমেলা। নানা মত-পথ, শ্রেণী, পেশা চিন্তাধারায় তরুণরা একত্র হবেন একটি ন্যায্য, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ড. ইউনূস নিঃসন্দেহে একজন গুণী মানুষ। তার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ নেই। কিন্তু নাতির বয়সী উপদেষ্টা ও পরামর্শকদের কারণে উনি কিছু ভুল করছেন। এটা সংশোধন হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, মনে হচ্ছে নির্বাচন চাওয়াটা বড় পাপ, বড় অপরাধ। যারা এটা বলছেন, তারা কি বৃষ্টিতে ভিজে রোদে পুড়ে আন্দোলন, সংগ্রাম করেছেন। মানবিক করিডোরের নামে বিতর্কিত করিডোর ও চট্রগ্রাম বন্দর বিদেশীদের হাতে তুলে দেয়ার কথা বললে উনারা রেগে যান কেন? তাকে বুঝতে হবে আসিফের কথায় দেশ চালালে ভুল হবে।

ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানি। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির। আরো বক্তব্য রাখেন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ সভাপতি আবু আফসান মাহমুদ ইয়াহিয়া, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান, নাজমুল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সমাবেশে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কমিটির নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেন। সমাবেশের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও বেলা ১১টা থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে সমাবেশের প্রস্তুতি কিছুটা বিঘ্নিত হয়। পরে দুপুর ১টার দিকে বৃষ্টি থেমে গেলে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে আসতে শুরু করেন। কর্মীদের অংশগ্রহণে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায় সমাবেশস্থল।

আরও