চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) এক ছাত্রীকে হেনস্থার জেরে স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে অন্তত ৩০-৩৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার জেরে আজ (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। তবে ক্লাস ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চলবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গতকাল শনিবার (৩০ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট এলাকায় ঘটনার সূত্রপাত হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দর্শন বিভাগের প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রী রাতে দেরিতে বাসায় ফেরায় দরজা বন্ধ রাখেন দারোয়ান। পরে বাসায় থাকা আরো কিছু ছাত্রী এসে দরজা খোলার জন্য জোর করলে দারোয়ানের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রীর গায়ে হাত তোলেন দারোয়ান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, আমি রাত ১১টা ২০ মিনিটে বাসায় আসি, তখন গেট লাগানো ছিল। অনেকক্ষণ ধরে গেট খোলার জন্য দারোয়ানকে ডাকার পরেও সে গেট খোলেনি। পরে আমার রুমমেটরা দারোয়ানকে দরজা খুলতে বললে সে প্রথমে খুলতে চায়নি। পরে তাকে বাধ্য করা হলে সে দরজা খুলেই আমাকে হেনস্তা করে ও গায়ে হাত তোলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষার্থীর ওপর গায়ে হাত তোলার ঘটনা জানাজানি হলে আশপাশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে আসে। এরপর দারোয়ানকে ধরতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা ধাওয়া করলে স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের দিকে ইট–পাটকেল মারতে শুরু করেন। এসময় স্থানীয়দের হামলায় অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলে রাত ৩টার পরে ক্যাম্পাসে সেনাবাহিনী প্রবেশ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
চবি প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, আমাদের দুইজন সহকারী প্রক্টরসহ নিরাপত্তা কর্মী ও অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা নিয়েছি। ভিসি, প্রো-ভিসি স্যাররা সেনাবাহিনীর সহায়তায় বিষয়টি সমাধান ও পরবর্তী আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করবেন। আজকের সকল পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে চবি মেডিকেলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানান, অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুইজনের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত আছে, একজনের পা ভেঙে গেছে। ইটপাটকেল বা লাঠির আঘাতে শিক্ষার্থীদের শরীরে গুরুতর আঘাত শনাক্ত হয়েছে।