ধান উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে। বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, শ্রম ও জমি প্রস্তুত—প্রায় সব উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির চাপ পড়ছে উৎপাদন খরচে। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়ছে না ধানের উৎপাদনশীলতা কিংবা কৃষকের লাভ। গত পাঁচ অর্থবছরের বোরো ও আমন ধানের উৎপাদন ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই মৌসুম মিলিয়ে প্রতি কেজি ধান উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় বেড়েছে গড়ে প্রায় ২৫ শতাংশ। বিপরীতে বোরোর ফলন বেড়েছে মাত্র ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর আমন ধানের ফলন বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। কৃষকের ব্যয় বাড়লেও এ সময়ে বোরো ধানের কৃষক পর্যায়ে প্রাপ্ত দাম গড়ে ১৩ শতাংশের কিছু বেড়েছে। আর আমনের ক্ষেত্রে ওই পর্যায়ে দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশের মতো।
কৃষি বিশ্লেষকরা বলছেন, বিগত কয়েক বছরে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। তবে সেই অনুপাতে কৃষকের বিক্রি করা পণ্যের দাম বাড়েনি। জলবায়ুজনিত অনিশ্চয়তা, কৃষি ইনপুট ও কৃষি শ্রমিকের পেছনে ব্যয় বাড়ছে। ফলে কৃষকের ধান উৎপাদনে মুনাফা ঋণাত্মক। এ ব্যয় কমানো, আধুনিক যন্ত্রাংশের ব্যবহার বাড়ানো এবং উচ্চফলনশীল বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কৃষকরা লোকসান গুনে একসময় ধান তথা কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। এমনটি হলে খাদ্য উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রতি কেজি বোরো ধান উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় হয় ২৬ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ টাকা ৫৩ পয়সায় এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩১ টাকা ৬০ পয়সায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যয় কিছুটা কমে ৩০ দশমিক শূন্য ৫ টাকা হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আবার বেড়ে হয়েছে ৩৪ টাকা ১১ পয়সা। অর্থাৎ পাঁচ বছরে বোরো ধানের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ৩১ দশমিক ২ শতাংশ।
অন্যদিকে, আমনের ক্ষেত্রে ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রতি কেজিতে উৎপাদন ব্যয় ছিল ২৫ টাকা ৮০ পয়সা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৭ দশমিক ৮০ টাকা, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৮ দশমিক ৮৭ টাকা, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৯ দশমিক ৩৯ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০ টাকা ৪৬ পয়সায় উন্নীত হয়েছে। এ সময়ে আমনের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে ১৮ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ।
অর্থাৎ দুই মৌসুমে গড়ে প্রায় ২৫ শতাংশ উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষকপ্রাপ্ত ফসলের দাম সেভাবে বাড়েনি। একইভাবে ধানের ফলনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়েনি, যা দিয়ে কৃষকের মুনাফা বাড়ার সুযোগ ছিল।
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত বোরো কৃষকের গড় ফলন বেড়েছে ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। বিপরীতে আমনে ফলন বেড়েছে ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে একর প্রতি গড়ে বোরো ধানের ফলন ছিল ১ হাজার ৬৮১ কেজি। চলতি বছর সেটির সম্ভাব্য ফলন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭৯৫ কেজি। আর ২০২১-২২ অর্থবছরে প্রতি একরে আমনের ফলন ছিল ১ হাজার ৫৮ কেজি। সবশেষ অর্থবছরে বেড়ে ফলন হয়েছে ১ হাজার ২২০ কেজি।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. মোহাম্মদ ইউনুস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, কিন্তু উৎপাদনশীলতা বাড়েনি। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। এখানে প্রচুর গবেষণা দরকার। সেটি হচ্ছে না। কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। নানা মধ্যস্বত্বভোগী এখানে বসে আছে। বাজার ব্যবস্থাপনা জরুরি। ন্যায্যমূল্য পেলে ও উৎপাদনশীলতা বাড়লে কৃষক লাভবান হবেন। তারা লাভবান হলে কৃষি বাঁচবে। কৃষি বাঁচলে আমাদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারি নীতিগুলো জ্বর এলে নাপা খাওয়ানোর মতো। তাৎক্ষণিক সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদের বিষয়টি চিন্তা করা হয় না। এখানে গবেষণা বাড়ানোর বিকল্প নেই।’
ধান উৎপাদনের ব্যয় বাড়ার অন্যতম বড় কারণ সেচ। বিশেষ করে বোরো ধান শুষ্ক মৌসুমে উৎপাদিত হওয়ায় সেচের ওপর নির্ভরতা বেশি। উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করেই বোরো আবাদ করতে হয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, জ্বালানির মূল্য এবং সেচের ব্যয় বোরো উৎপাদনের স্থায়িত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, অনেক এলাকায় উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হলেও সেচ ও জমি প্রস্তুতের ব্যয় উৎপাদনের সঙ্গে নেতিবাচকভাবে সম্পর্কিত।
উত্তর-পশ্চিমের বরেন্দ্র অঞ্চলে পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক। ২০২৬ সালের একটি গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সাতটি জেলার কিছু এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বছরে মাত্র ১০০-২১০ মিলিমিটার, যেখানে স্বাভাবিক পুনর্ভরণের হার ১০০-৫১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত হওয়ার কথা। দীর্ঘদিন ধরে বোরোসহ সেচনির্ভর কৃষিতে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে এ অঞ্চলে পানির ওপর চাপ বাড়ছে।
আবার জমিতে বাড়ছে রাসায়নিক সারের ব্যবহার করা হচ্ছে। মৃত্তিকা বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা ভারসাম্যহীন সার ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
গত জুনে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ কৃষক নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম ও সালফার অসম মাত্রায় ব্যবহার করেন, যা মাটির স্বাস্থ্য, ফসলের উৎপাদনশীলতা ও কৃষির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সম্প্রতি ময়মনসিংহ ও রংপুরের ৩১৫ জন ধানচাষীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মাত্র ২৮ শতাংশ কৃষক সুপারিশকৃত মাত্রায় সার প্রয়োগ করেন। ৩৭ শতাংশ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি এবং ৩৫ শতাংশ উল্লেখযোগ্যভাবে কম সার প্রয়োগ করেন। গবেষকদের মতে, এ ধরনের ভারসাম্যহীনতা মাটিতে পুষ্টির অসামঞ্জস্য তৈরি করে। এমন অসামঞ্জস্য সার ব্যবহার ছাড়াও প্লাস্টিক ও দূষণে মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে। এর ফলেও উৎপাদনশীলতা কমছে এবং উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষির জন্য উদ্বেগ তৈরি করছে।
কৃষি বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘ধানের উৎপাদনশীলতার ওপর শুধু কৃষি উপকরণের দাম নয়, সরাসরি প্রভাব ফেলছে আবহাওয়ার পরিবর্তনও। অতিরিক্ত তাপ, অনিয়মিত বৃষ্টি, খরা, বন্যা ও আকস্মিক জলাবদ্ধতা এখন কৃষকের উৎপাদন পরিকল্পনাকে অনিশ্চিত করে তুলছে। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কৃষিজমি কমে যাওয়ার প্রবণতা।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর থেকে ৫২ বছরে (২০২৩ সাল পর্যন্ত) দেশে আবাদি জমির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) ড. মো. আব্দুছ ছালাম গত সপ্তাহে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দেশে প্রতি বছর ২০ থেকে ২২ লাখ মানুষ বাড়ছে। বিপরীতে প্রতি বছর দশমিক ৩৬ শতাংশ হারে কৃষিজমি কমছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০৭ একর জমি শিল্পায়ন, নগরায়ণ, বসতবাড়ি ও সড়ক নির্মাণের কাজে চলে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলমের মতে, কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে উৎপাদনশীলতার তুলনা ঠিক নয়। উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে কৃষকপ্রাপ্ত দামের তুলনা করলে কৃষকের লাভ-লোকসান বের করা যাবে।
তিনি বলেন, ‘উৎপাদনশীলতার সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, পরিমিত সার ব্যবস্থাপনা সম্পৃক্ত। বিপরীতে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার সঙ্গে কৃষি ইনপুটের দাম বেড়ে যাওয়া, অদক্ষ শ্রমিকের কারণে অতিরিক্ত শ্রমের ব্যয়ের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার পণ্যের দাম কতটা বাড়ল সেটি দেখতে হবে। বিগত কয়েক বছরে এটি স্পষ্ট উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ফার্মগেটে (কৃষক পর্যায়ে) পণ্যের দাম বাড়েনি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্লাইমেট ভালনারেবিলিটির কারণে কৃষির প্রবৃদ্ধি টেকসই নয়। কোনো বছর প্রবৃদ্ধি ২ থেকে ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। আবার ২ থেকে ৩ শতাংশ কমে যায়। এজন্য জলবায়ু সহনশীল জাত উদ্ভাবন করতে হবে। জলবায়ু স্মার্ট কৃষিতে যেতে হবে। আধুনিক যন্ত্রাংশের ব্যবহার বাড়াতে হবে।’
বিগত পাঁচ বছরে বোরো ও আমন ধান উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় বাড়লেও সেই অর্থে তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়েনি। ভোক্তা পর্যায়ে এসব পণ্যের দাম বাড়লেও কৃষক পর্যায়ে প্রাপ্ত দাম বেশি নয়। এ সময়ে বোরো ধানের কৃষক পর্যায়ে গড়ে ১৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং আমনে ২৩ দশমিক ১৮ শতাংশ দাম বেড়েছে।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত প্রতি কেজি আমনের গড় দাম ছিল ৩০ দশমিক ৬৬ টাকা। বোরোর ক্ষেত্রে সেটি ৩১ টাকা ২৪ পয়সা। যেখানে বোরোর কেজিপ্রতি উৎপাদন ব্যয় ৩৪ টাকার ওপরে। যদিও বোরো ধান সংগ্রহ মৌসুমে প্রতিবারই দাম কম থাকে। ফলে বছরের অর্ধেক সময়ের গড়ে দাম কমলেও পরে সেটি আরো কিছুটা বাড়তেও পারে। ২০২৫ সালে বোরো ধানের কৃষক পর্যায়ে প্রাপ্ত কেজিপ্রতি গড় দাম ছিল ৩৪ দশমিক ৫৭ টাকা, আর আমনে ৩৫ দশমিক ৩০ টাকা। ২০২৪ সালে বোরোর গড় দাম ছিল ৩২ দশমিক ২৮ টাকা এবং আমনের ৩৩ দশমিক ১৮ টাকা। ২০২৩ সালে আমনের গড় দাম ছিল ৩০ টাকা ৭১ পয়সা এবং বোরোর ৩০ টাকা ৫১ পয়সা। ২০২২ সালে কৃষক পর্যায়ে আমনের গড় দাম ছিল ২৮ টাকা ৩৪ পয়সা। বোরোর ছিল ৩০ টাকা ৫০ পয়সা।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষির সংকট এখন শুধু উৎপাদন খরচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। জমি কমছে ও ভূগর্ভস্থ পানি কমছে, মাটির ওপর চাপ ও আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা বাড়ছে। অন্যদিকে, বাজারে কৃষকের দরকষাকষির ক্ষমতাও সীমিত। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে কৃষির সেচ ও পরিবহনে ব্যয় বাড়বে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচেও প্রভাব ফেলবে। এ বাস্তবতায় আগামী দিনের কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও তা টেকসই করতে পানি, মাটি, জমি ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বিত সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কৃষির ইনপুটের সহজলভ্যতা জরুরি।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক এএইচএম সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় ধান। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসির এক জরিপে দেশের কৃষকের বোরো ধানের নিট রিটার্ন নেগেটিভ পাওয়া গিয়েছিল। কৃষক ধানে মুনাফা না পেলে এখান থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে। কোনো কোনো জমিতে ধানের বিকল্প চাষের সুযোগ নেই। তারা বাধ্য হয়ে হয়তো ধানেই থাকবে। কিন্তু অন্যরা ধীরে ধীরে ডাইভারসিফিকেশনে যাবে। এটাই বাস্তবতা। কিন্তু অন্য ফসলে গিয়েও কৃষকরা শ্রম ও বিনিয়োগের বিপরীতে কতটা মুনাফা করতে পারছে সেই প্রশ্ন থেকে যায়। কৃষির মৌলিক সংকটগুলো চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে কৃষি নিয়ে ধুঁকতে হতে পারে।’
সার্বিক বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কৃষকের মূল ব্যয় সার, শ্রমিক ও সেচে। আমরা জরিপ করে দেখেছি কৃষক যে পরিমাণ রাসায়নিক সার ব্যবহার করেন সেটি ২৩-২৭ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য মাটির সমস্যাগুলো দূর করতে হবে। আমরা মাটি নিয়ে কাজ করছি। শ্রমিকের ব্যয় কমাতে মেকানাইজেশনে যাব। এতে তার ব্যয় কমে আসবে। সেচের ব্যয় কমাতে ডিপ টিউবওয়েলকে সোলারে কনভার্টের কাজ চলছে। কয়েক হাজার সোলারে কনভার্ট হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে ৬০-৭০ হাজার ডিপ টিউবওয়েলকে সোলারে কনভার্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কৃষকের সেচের জন্য বিদ্যুৎ ও ডিজেল খরচ বেঁচে যাবে। কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমাতে ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে।’