জেলার গাবতলী উপজেলায় ৩ লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে সানজিদা খাতুন নামের চার বছরের শিশুকে হত্যা করেছে অপহরণকারীরা। অপহরণের ১২ ঘণ্টা পর শিশুটির হাত, পা ও মুখ বাঁধা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই অপহরণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিহত সানজিদা উপজেলার লাঠিমার ঘোন উত্তরপাড়া গ্রামের শাহিন প্রামানিকের মেয়ে। গ্রেফতারকৃতরা হলো একই গ্রামের প্রবাসী উজ্জ্বলের ছেলে রিয়াদ (১৪) ও মো. সাজুর ছেলে মো. শুভ (১৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টায় লাঠিমার ঘোন উত্তরপাড়া গ্রামের শাহিন প্রামানিকের চার বছর বয়সের মেয়ে সানজিদা খাতুন বাড়ির উঠানে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করে না পেয়ে থানা পুলিশে জানানো হয়। ওইদিন দুপুরে একটি মোবাইল ফোন থেকে পাশের বাড়ির এক নারীকে জানানো হয়, হারিয়ে যাওয়া সানজিদাকে জীবিত পেতে হলে ৩ লাখ টাকা দিতে হবে।
পরে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের পর ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সানজিদাকে ফেরত দেয়ার কথায় রাজি হয়ে যায় অপহরণকারীরা। তারা রাত সাড়ে ৭টায় লাঠিমার ঘোন রাস্তার একটি কালভার্টের কাছে টাকা রাখতে বলে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে সানজিদাকে হত্যার হুমকি দেয়।
তাদের দাবি অনুযায়ী কালভার্টের কাছে ৫০ হাজার টাকা রাখা হয়। এ সময় এক যুবক সেখানে কিছু খুঁজতে গেলে এলাকাবাসী ও পুলিশ তাকে আটক করে। আটকের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অপহরণের কথা স্বীকার করে। পরে শিশু সানজিদার কথা জানতে চাইলে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সে পুলিশকে জানায়। তার কথামতো স্থানে অভিযান চালিয়ে রাত ১১টায় শুভর বাড়ির ঘরের মধ্য থাকা স্টিলের বাক্সের মধ্যে থেকে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় বস্তায় ভরা মরদেহ উদ্ধার করে। পালিয়ে থাকা শুভকে রাতেই তার নানার বাড়ি কদমতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
বগুড়ার গাবতলী মডেল থানার ওসি মো. জিয়া লতিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।