সংবাদ ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার

চিফ হুইপ বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে চায়। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বিগত সরকারের করা শতাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তি সরকার পর্যালোচনা করছে। এ পর্যালোচনার ফলাফল শিগগির আসবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চিফ হুইপ এ কথা বলেন। গতকাল জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এ সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারদলীয় অন্য হুইপরা উপস্থিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার চুক্তির আওতায় বন্ধুরাষ্ট্রের জাহাজ চলাচল ও ওই চুক্তি বাতিলের বিষয়ে জানতে চান এক সাংবাদিক। জবাবে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘আমরা চুক্তিগুলো, মানে সব—১০১টা এমওইউ নিয়ে আলোচনা করছি এবং সেটার ফল অনতিবিলম্বে আপনারা পাবেন।’

চিফ হুইপ বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার বিরোধী দলের সঙ্গে একত্রে কাজ করতে চায়। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’ সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে সংশোধনের নজির রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজন অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব এবং বর্তমান সরকারও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সে পথেই এগোতে চায়।’

তৃতীয় অধিবেশন নিয়ে তিনি বলেন, ‘তৃতীয় অধিবেশন মাত্র নয়টি কর্মদিবস চলেছে। ২৭ আগস্ট অধিবেশন শুরু হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। এ সময়ে ছয়টি বিল উত্থাপিত এবং ছয়টি বিল পাস হয়েছে। সংসদের কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধিতে নোটিস ও আলোচনা হয়েছে। বিধি ৬৮-এ দুটি নোটিসের ওপর আলোচনা, বিধি ৭১-এ ১৪টি বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং ২ মিনিটের বক্তব্যের বিধিতে ১২৪টি নোটিসের ওপর আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টির উত্তর দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার সদস্যরা সব মিলিয়ে ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর এবং সম্পত্তিতে আজীবন ভোগদখলের অধিকারসংক্রান্ত আইন অন্যতম।’ এ আইন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

চিফ হুইপ বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে বাবা-মা সন্তানদের সম্পত্তি দিয়ে দেয়ার পর বৃদ্ধ বয়সে অসহায় হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ বৃদ্ধাশ্রমে বসবাস করতে বাধ্য হন। নতুন আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মায়ের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

এ আইন নিয়ে বিরোধিতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও সম্মান নিশ্চিত করার বিষয়টি কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয়।’ ধর্মীয় বিধানের কথা যারা বলছেন, তাদের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘বাবা-মাকে সম্মান ও সুরক্ষা দেয়ার বিষয়টিও ধর্মীয় মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

গুম প্রতিরোধ এবং মানবাধিকার-সংক্রান্ত আইন নিয়েও কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, ‘এসব আইন প্রণয়নের আগে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, সংশ্লিষ্ট অংশীজন, আইনজীবী, বিচারক ও সাংবাদিকদের মতামত নেয়া হয়েছে। মানবাধিকার যাতে কোনোভাবেই লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আইনগুলোকে আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

আরও