নরসিংদীতে জেগে ওঠা চরে বাদামের বাম্পার ফলন লাভের মুখ দেখছেন কৃষক

নরসিংদীর সদর উপজেলার চরাঞ্চলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাদাম চাষ। বিস্তীর্ণ চরজুড়ে সবুজ পাতায় দোল খাচ্ছে বাদামগাছ।

কম খরচ, কম পরিশ্রমে বেশি ফলন এবং বাজারে ভালো দামের কারণে বাদাম চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে বাদামের বাম্পার ফলনের আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

তথ্য বলছে, জেলার সদর উপজেলার মেঘনা নদীর তীরবর্তী নজরপুর, করিমপুর, আলোকবালি ও চরদিঘলদী, রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ, মির্জানগর, আদিয়াবাদ, চাঁনপুর, পাড়াতলী, বাঁশগাড়ী, শ্রীনগর, চাঁদপুর, মির্জারচর, চরমধুয়া, মাঝেরচর, মৌহিনিপুর, সদাগর কান্দি এবং বেলাব উপজেলার চর বেলাব এলাকায় বিভিন্ন জাতের বাদাম চাষ হচ্ছে। এসব এলাকার অনাবাদি জমিতে অন্যান্য ফসলের তুলনায় স্বল্প খরচ এবং কম পরিশ্রমে বাদাম চাষ বেশ ভালো এবং বেশি লাভজনক হওয়ায় বাদাম চাষকে ঘিরেই স্বপ্ন বুনছেন ওই এলাকার কৃষকরা। আগের তুলনায় বাদামের দাম বাড়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে আবাদ।

কৃষকদের ভাষ্য, বাদাম চাষে সার বা বিষের প্রয়োজন হয় না। ফলে খরচ কম এবং লাভ বেশি। এক বিঘা জমিতে ১৫-২০ হাজার টাকা ব্যয় করে ৩৫-৪০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করা সম্ভব। এছাড়া বাদাম চাষ শেষে অন্য ফসল চাষও করা যায়।

সদর উপজেলার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিতরামপুর গ্রামের বাদাম চাষী মাসুদ মিয়া বলেন, ‘‌এ বছর ১২ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। প্রায় ২ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। আল্লাহ চাইলে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ ফসল ৫-৬ লাখ টাকায় বিক্রি করব।’

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) সালাউদ্দিন টিপু বলেন, ‘‌ˆজলায় চলতি মৌসুমে ২৯০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এরই মধ্যে ৩১০ হেক্টরে আবাদ করা হয়েছে।’

আরও