চট্টগ্রামে ভোটযুদ্ধে লড়বেন এমদাদুল ও সাবিনা দম্পতি

মোহাম্মদ এমদাদুল হক ও সাবিনা খাতুন। সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের দলীয় প্রার্থী হয়ে চট্টগ্রামের দুই আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারা। নির্বাচনে এই দম্পতি দলীয় আপেল প্রতীকে লড়ছেন। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চাঁদগাঁও ও পাঁচলাইশের একাংশ) আসনে মোহাম্মদ এমদাদুল হক এবং চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী, ডবলমুরিং ও হালিশহর) আসনে দলীয় মনোনয়নে নির্বাচন করছেন সাবিনা খাতুন।

ইনসানিয়াত বিপ্লবের চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি মোহাম্মদ এমদাদুল হক এবং তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক। মোহাম্মদ এমদাদুল হকের শিক্ষাগত যোগ্যতা রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স এবং সাবিনা খাতুন অ্যাকাউন্টিংয়ে মাস্টার্স করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। মোহাম্মদ এমদাদুল হক চট্টগ্রামের ইপিজেডে অবস্থিত তাবু প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এইচকেটি’র গার্মেন্টস ডিভিশনের সাপ্লাই চেইন বিভাগে এবং সাবিনা খাতুন বেসরকারি এসএ গ্রুপের ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস বিভাগে সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। দুইজনেরই হলফনামায় বর্তমান ঠিকানা আগ্রাবাদের হাজীপাড়া উল্লেখ করেছেন।

রিটার্নিং কার্যালয়ে জমা দেয়া দুই প্রার্থীর নির্বাচনী হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী সাবিনা খাতুনের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৮১ হাজার ৭৭৩ টাকা। প্রার্থীর কাছে ১২ লাখ ৬ হাজার ৪০৯ টাকা নগদ টাকা, ব্যাংকে জমা, সঞ্চয়পত্র, স্থায়ী আমানত, বীমা, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদসহ তার মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৬২৪ টাকা। অন্যদিকে প্রার্থীর স্বামীর নগদ টাকা, সঞ্চয়পত্র বীমা, সোনাসহ মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৮৭ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা। এছাড়া প্রার্থীর ও তার স্বামীর মোট স্থাবর সম্পদের পরিমাণ যথাক্রমে ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ১৬ টাকা ও ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০ টাকা। যদিও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সিংহ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেয়া সাবিনা খাতুন তার হলফনামায় বাৎসরিক আয় উল্লেখ করেছেন ৬ লাখ ৬০০ টাকা এবং হাতে নগদ টাকার পরিমাণ দেখিয়েছেন ১৩ লাখ ৩৯ হাজার ৪২১ টাকা। সে সময়ে হলফনামায় স্বামীর আয় কিংবা স্থাবর-অস্থাবর কোনো তথ্য দেননি তিনি।

অন্যদিকে মোহাম্মদ এমদাদুল হক শেয়ার ও চাকরির মাধ্যমে বছরে ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৬০৭ টাকা আয় করেন। ৫৩ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩৬ টাকাসহ সঞ্চয়পত্র বীমা, সোনাসহ মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৮৭ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা এবং তার স্ত্রীর মোট অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখিয়েছেন ৪৯ লাখ ৪১ হাজার ৬২৪ টাকা। অন্যদিকে প্রার্থী ও তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পদ যথাক্রমে ১৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০ টাকা ও ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ১৬ টাকার। এদিকে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সিংহ প্রতীকে নির্বাচন করা এমদাদুল হক তার হলফনামায় চাকরির সুবাদে বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৯৬ হাজার ১৯২ টাকা, ১৫ লাখ ৮৪ হাজার ৬৯৯ টাকা নগদসহ অস্থাবর সম্পদের পরিমান দেখান ২৫ লাখ ১৬ হাজার ৯০২ টাকা এবং স্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখান ১৫ লাখ ৩৯ হাজার ৪০০ টাকা। অর্থাৎ গত সাত বছরের ব্যবধানে এমদাদুল হকের অস্থাবর সম্পদ বেড়েছে আড়াইগুণের বেশি। তবে স্থাবর সম্পদ প্রায় একই আছে। সেসময়ে স্ত্রীর কোনো সম্পদ দেখাননি তিনি।

অর্থাৎ, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জমা দেয়া হলফনামায় সম্পত্তির হিসাব-নিকাশ সংক্রান্ত হলফনামায় এমদাদুল হক এবং তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন তাদের একে অপরের হলফনামায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, নগদ টাকাসহ সকল তথ্য একই দিয়েছেন।

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মনোনীত চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ এমদাদুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী পৃথক আসনের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। এখনো নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়নি। তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচিত আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তারাও সমর্থন দিচ্ছেন। একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন মানে শুধু ভোটের দিন নয় বরং পুরো নির্বাচনী সময়জুড়ে সকল প্রার্থী ও দলের সমান অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা। আজকের বাস্তবতায় মাঠপর্যায়ে মানুষ ভয়-ভীতি, হামলা, অস্ত্রের দাপট এবং সংঘাতমুখর রাজনীতি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন।

চট্টগ্রাম-১০ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থী সাবিনা খাতুন বণিক বার্তাকে বলেন, দলীয় মনোনয়নে আমি ও আমার স্বামী পৃথক আসনের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুজনেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সিংহ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলাম। এ রকম দম্পতি এই অঞ্চলে সম্ভবত আমরাই। নির্বাচনে জয়লাভ করলে মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করব এবং তাদের বিপদে-আপদে পাশে থাকব। বিশ্বব্যাপী মানবতার সংকট চলছে। এই সংকটকে মোকাবেলা করতে আমাদের দল কাজ করছে।

আরও