যাত্রী চাহিদা থাকলেও রংপুর বিভাগে সীমিত হয়ে আসছে বিআরটিসি বাস সার্ভিস

যাত্রীদের পছন্দের তালিকায় থাকলেও বিআরটিসি রংপুর ডিপো থেকে পরিচালিত বাসের রুট সীমিত হয়ে আসছে।

যাত্রীদের পছন্দের তালিকায় থাকলেও বিআরটিসি রংপুর ডিপো থেকে পরিচালিত বাসের রুট সীমিত হয়ে আসছে। দ্বিতল বাসসহ গত চার বছরে পঁাচটি রুটে বাস সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেছে। সড়ক পরিবহন আইনে দেশের সব সড়কে চলাচলের অনুমতি থাকলেও বিভাগের ৪৫ রুটের সব বাস সার্ভিস চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে নানা জটিলতায় দেশের মাত্র ১৬টি রুটে চলাচল করছে বিআরটিসি বাস সার্ভিস।

বিআরটিসি রংপুর বাস ডিপো সূত্রে জানা গেছে, চার বছরের মধ্যে বন্ধ হওয়া বিআরটিসি বাস সার্ভিসগুলো হচ্ছে রংপুর চিলাহাটি, রংপুর রাণীশংকল, রংপুর দেবীগঞ্জ ও রংপুর পাটগ্রাম হয়ে বুড়িমারী। এছাড়া ২০১৯ সালের মে মাস থেকে পর্যায়ক্রমে ছয়টি দ্বিতল বাস চলাচল শুরু করে। বর্তমানে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বাসগুলোকে অন্যত্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ দ্বিতল বাসগুলো যাত্রীদের অনেক পছন্দের ছিল। বেসরকারি বাস মালিকদের বিরোধিতা সত্ত্বেও বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ বাসগুলো চালু করেছিল। বাস সংকট, বেসরকারি বাস মালিকদের বিরোধিতাসহ নানা সমস্যায় রুট সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিআরটিসি ডিপোর একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

বর্তমানে রংপুর ডিপো থেকে বিআরটিসি বাস চলাচলকারী ১৬টি রুট হচ্ছে পঞ্চগড়-পিরোজপুর, রংপুর-গোপালগঞ্জ, পঞ্চগড়-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়-মোংলা, কুড়িগ্রাম-শ্যামনগর, রংপুর-শ্যামনগর, ভুরুঙ্গামারী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, টুনিরহাট-গাইবান্ধা, চিলমারী-দেবীগঞ্জ, রংপুর-পঞ্চগড়, রংপুর-ধামইরহাট-সাপাহার, রংপুর- শাকোয়া, রংপুর-পঞ্চগড়-আটোয়ারী, রংপুর-বকদুলঝোলা এবং রংপুর-ভাউলাগঞ্জ।

রংপুর বিআরটিসি ডিপোর ট্রাফিক ইনচার্জ জাহেদুর রহমান বলেন, রংপুর-ধামুইরহাট রুটে (ভায়া মিঠাপুকুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, হিলি, পাঁচবিবি, জয়পুরহাট, মঙ্গলবাড়ী, ধামরইহাট) আগে বাস চলাচল করত। কিন্তু বাস সংকটে তা বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি এটি পুনরায় চালু করার জন্য বেশ কিছুদিন থেকে চেষ্টা করা হলেও বেসরকারি বাস মালিকদের নানা অজুহাতে বিলম্ব হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন আইন (২০১৮) অনুযায়ী যাত্রী ও পণ্যবাহী মোটরযান পরিচালনার আইনে যা-ই থাকুক না কেন ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারির অতিরিক্ত গেজেট প্রকাশের পর বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে দেশের যেকোনো স্থানে বাস পরিচালনা করতে পারবে। কিন্তু নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এটি সম্ভব হচ্ছে না।

রংপুর বিআরটিসি ডিপোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ডিপোতে বাস আছে ৪৩টি। এর মধ্যে ২৬টি অনেক পুরনো। অধিকাংশ গাড়ি ১৫-২০ বছরের পুরনো। গাড়িগুলোকে প্রতিনিয়ত সার্ভিসিং করে সড়কে চালানো হয়। যেখানে বেসরকারি মালিকানাধীন গাড়ি ১৫-২০ মিনিট পরপর সড়কে চলাচল করে সেখানে বিআরটিসি বাস কমপক্ষে ৩০-৪০ মিনিট পরপর চলাচল করে। বেসরকারি মালিকানাধীন গাড়িগুলো নতুন এবং রঙ আকর্ষণীয়। সিটগুলো অত্যাধুনিক। অন্যদিকে অধিকাংশ বিআরটিসি বাস জরাজীর্ণ ও পুরনো। এত প্রতিবন্ধকতার পরও ডিপোতে কর্মরত ১৩৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত বেতন-বোনাস পাচ্ছেন। প্রতি মাসে বেতন দিতে হচ্ছে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা। এমনকি আগের বকেয়া পরিশোধ করাও সম্ভব হয়েছে। ২০১৯ সালের পর থেকে কোনো বকেয়া পাওনা নেই। স্বল্পসংখ্যক রুটে বাস পরিচালনা করে লাভের মুখ দেখলেও কেন বেশিসংখ্যক রুটে বাস চলা সম্ভব হচ্ছে না এমন প্রশ্ন যাত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের।

জানতে চাইলে বিআরটিসি রংপুর বাস ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) মো. জুলফিকার আলী বলেন, ‘মূলত বাস সংকটের কারণে রুট বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া অনেক সময় বেসরকারি বাস মালিকদের বিরোধিতার কারণেও রুট বাড়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।’

দ্বিতল বাস বন্ধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, গাড়িগুলো পরিচালনায় লোকসান হওয়ায় এগুলো তুলে দিতে বাধ্য হয়েছেন। নতুন গাড়ি না আসায় বর্তমানে ১৫-২০ বছরের পুরনো গাড়ি দিয়ে তারা যাত্রীসেবা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

আরও