রাজধানীর রূপনগরে কেমিক্যাল গোডাউন ও পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ঘটনায় নিহত ১৬ জনের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
গতকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মরদেহ হস্তান্তর করেন রূপনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ মুখলেছ লস্কর।
পরিদর্শক (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান বলেন, রাতে মালিবাগ সিআইডি ফরেনসিক থেকে ১৬ জনের মরদেহের ডিএনএ নমুনা আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনদের খবর দিয়ে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসি। এ পর্যন্ত নিহত ১৬ জনের স্বজনরা ঢাকা মেডিকেলে আসে এবং স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরো জানান, দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে মরদেহ দাফন কাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেল প্রকৌশলী মো. জাকির স্বজনদের কাছে এ অনুদান তুলে দেন।
এর আগে, ১৪ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আগুনের সূত্রপাতে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলেই ১৬ জনের মৃত্যু হয়। সেদিন রাতেই মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। ১৫ অক্টোবর ৬টি মরদেহের ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১৬ অক্টোবর সংগ্রহ করা হয় বাকি ১০টি মরদেহের ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা।
নিহতদের মধ্যে যাদের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে— বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার মৃত ওমর ফারুকের মেয়ে মাহিরা আক্তার (১৪), ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার দলিগর নগর গ্রামের ওয়াজি উল্লার মেয়ে নার্গিস আক্তার (১৮), শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নিজ পাড়া গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে ছানোয়ার হোসেন (২৫), গাইবান্ধা সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে নূরে আলম সরকার (২৩), বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার দাড়ি কাটা গ্রামের মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে আল মামুন (৩৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর থানার তিলকনগর গ্রামের নজু মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম রবিন (২০)। এদের মরদেহ আগামীকাল হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনায় আরো কয়েকজন এখনো নিখোঁজ। তাদের মধ্যে আছেন— সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার গোল্লা রাজাপুর গ্রামের রতন মিয়ার মেয়ে ফারজানা আক্তার (১৫), বরগুনা সদর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে খালিদ হাসান সাব্বির (২৯), নাটোরের সিংড়া উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে আব্দুল আলিম (১৪), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার নুরুল্লা গ্রামের সবুজ মিয়ার ছেলে জয় মিয়া (২০), নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার সাউথখালী গ্রামের নয়ন মিয়ার মেয়ে আসমা আক্তার (১৩), নেত্রকোনার মদন উপজেলার কদমশ্রী গ্রামের সনু মিয়ার মেয়ে মুনা আক্তার সামিয়া (১৬), লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পশ্চিম নওদাবাস গ্রামের আব্দুল মান্নানের মেয়ে মৌসুমী খাতুন (২২), শরিয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর গ্রামের মুছা দেওয়ানের মেয়ে মুক্তা বেগম (৩৬), নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার জয়পুর গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে তোফায়েল আহমেদ (১৮) ও কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার পান্টি গ্রামের নাজমুল ইসলাম রিয়াজ (৪০)।