হবিগঞ্জে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা অস্থায়ী ক্যাম্পাসে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে ছয় বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হয়নি। এবার স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে তারা শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকায় প্রধান সড়ক অবরোধ করে রাখেন। ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ চলাকালে তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন।
পরে মেডিক্যাল কলেজে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেডিকেল কলেজের পঞ্চম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু হাছান।
সংবাদ সম্মেলনে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আকিব মাহমুদ বলেন, ‘হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজ আমাদের প্রাণের প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে। এখানে মানহীনতার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন ও বৈষম্যমূলক। আমাদের মেডিকেল কলেজে বর্তমানে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। এর বিপরীতে রয়েছেন ৫৫ শিক্ষক। আর কিউরেটর রয়েছেন দুজন। অর্থাৎ প্রতি ছয়জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে শিক্ষক রয়েছেন। বন্ধ করার কারণ হিসেবে শিক্ষক সংকটের যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন।’
তিনি বলেন, ‘২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে আমাদের কার্যক্রম চলছে। সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত রোগী রয়েছে। হাসপাতালে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নেন। শিক্ষার্থীদের শেখার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ রোগী রয়েছে সেখানে।’
শিক্ষার্থী আবু হাসান বলেন, ‘মেডিকেল কলেজ সব ধরনের মানদণ্ড পূরণ করেই এগিয়ে চলছে। কিন্তু এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা হয়নি। এটাই কি কলেজের অপরাধ? এ অপরাধ আমাদের নয়, এ অপরাধ বিগত সরকারের। এতে হুমকির মুখে পড়েছে আমাদের ভবিষ্যৎ ও মানসিক স্বাস্থ্য। একই সঙ্গে হবিগঞ্জের ৩০ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবাও হুমকির মুখে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী রিংকু দেবনাথ, তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী রিয়েল সরকার, চতুর্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাসনিমুর রিয়াজসহ অন্য শিক্ষার্থীরা।