পাঁচ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হার ১১.৭৫%

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে কিছুটা গতি এলেও তা এখনো আশানুরূপ নয়। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হার ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা গত পাঁচ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সর্বনিম্ন।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে কিছুটা গতি এলেও তা এখনো আশানুরূপ নয়। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হার ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা গত পাঁচ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় সর্বনিম্ন।

গতকাল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এবারো এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগ—স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ (৩ দশমিক ৯২ শতাংশ) এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ (১ দশমিক ৮১ শতাংশ)।

আইএমইডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) এডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা। এরই মধ্যে জুলাই-নভেম্বরে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করতে পেরেছে ২৮ হাজার ৪৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা মোট এডিপি বরাদ্দের ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু নভেম্বরে এডিপি বাস্তবায়ন হার ছিল ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। ২০২৪-২৫-এর নভেম্বরে বাস্তবায়ন হার ছিল ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর আগে প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-অক্টোবর) এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

আইএমইডির তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৩৪ হাজার ২১৪

কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা মোট এডিপি বরাদ্দের ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে (জুলাই-নভেম্বর) এ হার ছিল ১৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ২০২১-২২ অর্থবছরে এ হার ছিল ১৮ দশমিক শূন্য ৬১ শতাংশ।

কয়েক বছর ধরে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকার পরও এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে রয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। অনিয়ম, দুর্নীতি, আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়হীনতা, বিলম্বিত দরপত্র ও প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে দীর্ঘসূত্রতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন হার সবসময় নিম্নমুখী। গত পাঁচ মাসেও গতি ফেরেনি স্বাস্থ্যের দুই বিভাগে। দুই খাত মিলে স্বাস্থ্য খাতে ২৯টি প্রকল্প রয়েছে এ বছরের এডিপিতে।

সরকারের ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে প্রথম পাঁচ মাসে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন করা পাঁচ বিভাগের মধ্যে রয়েছে জননিরাপত্তা বিভাগ (১ দশমিক ২৫ শতাংশ), স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ (১ দশমিক ৮১ শতাংশ), অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (২ দশমিক ১২ শতাংশ), আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (২ দশমিক ৩১ শতাংশ) এবং সুরক্ষা সেবা বিভাগ (২ দশমিক ৪৩ শতাংশ)।

অন্যদিকে ব্যয়ের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয় (১৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (২৭ দশমিক ৪২ শতাংশ), তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগ (২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ), ভূমি মন্ত্রণালয় (২৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ) এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় (২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ)। চলতি অর্থবছরে মূল প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ১৭৩টি, উপ-প্রকল্প ১৬টি এবং থোক বরাদ্দ ৯টি।

আরও