নেতৃত্ব, গ্রেফতার, বন্দিত্ব: খালেদা জিয়ার কারাজীবনের ইতিহাস

বেগম খালেদা জিয়া; তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, চার দশকের দলীয় নেত্রী, আর বারবার কারাবন্দি হওয়া এক রাজনৈতিক প্রতীক। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার এই পথচলা সহজ ছিল না। কারাগার বারবার তার ঠিকানা হয়েছে, কিন্তু রাজনীতি থেকে তাকে সরাতে পারেনি।

আজ ভোর ছয়টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

এরশাদবিরোধী আন্দোলন ও তিন দফায় কারাবাস

১৯৮২ সালের জানুয়ারি। রাজনীতিতে তার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ। খুব দ্রুতই স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রথম সারিতে উঠে আসেন খালেদা জিয়া। এই লড়াইয়ে তাকে তিনবার গ্রেফতার করা হয়। ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর, ১৯৮৪ সালের ৩ মে এবং ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কঠিন সময়

২০০৭। রাজনৈতিক সংকটের ভেতর সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উত্থান। খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়। ৩ সেপ্টেম্বর, ক্যান্টনমেন্টের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার হন খালেদা জিয়া। জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। তবে কারাগার নয় সেই বন্দী জীবন ছিল —সংসদ ভবন কমপ্লেক্সের বিশেষ সাব-জেল। ২০০৭ সালের ঈদুল ফিতর, তারপর ঈদুল আজহা—দুটো উৎসবই কাটে কারাগারে। পরিবারের সঙ্গেও ছিল সীমিত সাক্ষাৎ। একই সময় বন্দি ছিলেন তার দুই ছেলে—তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো। ৩৭২ দিনের কারাভোগ শেষে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান তিনি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দীর্ঘ কারাবাস

২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আবার কারাজীবন শুরু হয় খালেদা জিয়ার। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের দণ্ড। এসময় তার ঠিকানা পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার। অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ, শর্তসাপেক্ষে সাজা স্থগিত করে বাসায় চিকিৎসার সুযোগ দেয়া হলেও তা ছিল কার্যত গৃহবন্দি জীবন।

২০২৪ সালে ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলাতে শুরু করে। নভেম্বরের ২৭ তারিখ দুর্নীতি মামলা থেকে খালেদা জিয়া মুক্তি পান। দীর্ঘ কারাবাসের একটি অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

আরও