প্রান্তিক মানুষের জন্য সোলার ঋণে ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে

—আলমগীর মোরসেদ সাবেক

এমডি, ইডকল

বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ করে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে রয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে স্বল্প সুদে উন্নয়ন ঋণ পাওয়া আরো কঠিন হয়ে উঠছে।

দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক মুদ্রার ঋণ নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি বিনিময় হারের ঝুঁকি কীভাবে মোকাবেলা করা হবে, সেটিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ ঝুঁকির কারণে যেকোনো প্রকল্পের অর্থায়ন সক্ষমতা কমে যায়।

অন্যদিকে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থানীয় মুদ্রার তারল্য কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। এ লক্ষ্যেই ইডকল আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশনের (আইএফসি) সঙ্গে কাজ করেছে। আইএফসি আংশিক গ্যারান্টি বা অর্থ পরিশোধের গ্যারান্টি ব্যবস্থা চালু করেছে। উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে শুধু ঋণ চাওয়ার পরিবর্তে এ ধরনের গ্যারান্টি ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়া উচিত। এতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়নে আরো আগ্রহী হবে। এ খাতে স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশে মোট বিদ্যুতের ৫৫ শতাংশের বেশি ব্যবহার হয় গৃহস্থালি খাতে। তাই পরিবারভিত্তিক নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং এর অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের লক্ষ্য মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অর্জন করা। এ লক্ষ্য অর্জনে আগামী পাঁচ বছরে প্রতি বছর ১০০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ বা গ্রিড-সংযুক্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অর্থায়ন নিশ্চিত করা। ক্ষুদ্র ব্যবহারকারীদের জন্য ছোট আকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানি স্থাপনে খুচরা ঋণ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নতুন ধারণা নিয়ে এগিয়ে এসে ছোট ঋণ দিতে পারে। কারণ গৃহস্থালি পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঋণভিত্তিক পুঁজিবাজার। এটি শুধু নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সমস্যা নয়, বাংলাদেশের পুরো পুঁজিবাজারই এখনো ব্যাংকনির্ভর। কিন্তু ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ও বর্তমান নানা সমস্যার কারণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের অর্থায়নও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজার বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিকল্প অর্থায়নের উৎস হিসেবে এসব বিষয়কে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

দেশে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থায়ন। আমরা যেসব সংস্কারের কথা বলেছি, তার পাশাপাশি এমন উপায় খুঁজে বের করতে হবে, যাতে প্রধানত স্থানীয় মুদ্রায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন তুলনামূলক কম, রেয়াতি অথবা অন্তত যুক্তিসংগত সুদে নিশ্চিত করা যায়।

আরও