টানা বৃষ্টিতে যশোরে ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত

চলতি মাসের শুরু থেকেই যশোরে প্রতিদিন কম-বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে এক সপ্তাহ ধরে শুরু হয় টানা বর্ষণ। এ সময়ে জেলায় ৩৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

চলতি মাসের শুরু থেকেই যশোরে প্রতিদিন কম-বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে এক সপ্তাহ ধরে শুরু হয় টানা বর্ষণ। এ সময়ে জেলায় ৩৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। টানা বৃষ্টিতে কৃষকের কপালে দেখা দিয়েছে চিন্তার ভাঁজ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, টানা বৃষ্টিতে ৩ হাজার ১৯১ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হয়েছে। এসব ফসলের মধ্যে রয়েছে সবজি, আউশ, রোপা আমন, পাট ও মরিচ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় চলতি মৌসুমে ৬০ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে ধান ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে আউশ ১৫ হাজর ৫১০ হেক্টর, রোপা আমন ৬৬৫, রোপা আমনের বীজতলা ৬ হাজার ৯৪৫, পাট ২৪ হাজার ৩৪০, মরিচ ৪৬০ ও সবজি আবাদ হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। টানা বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৪৫ হেক্টর জমির আউশ, ৫০ হেক্টর জমির রোপা আমন, ৫৯০ হেক্টর জমির রোপা আমন বীজতলা, ৬২৫ হেক্টর পাট, ১২০ হেক্টর মরিচ ও ৫৬১ হেক্টর জমির সবজি।

কৃষকরা বলছেন, ‘সবজি জোন’ হিসেবে পরিচিত যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর, বারিনগর, কাশিমপুর ইউনিয়ন এবং চৌগাছা উপজেলা ও আশপাশের এলাকার খেতে পানি জমে রয়েছে। চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছেন কৃষক। এসব সবজির মধ্যে রয়েছে পুঁইশাক, বরবটি, পটোল, করলা, বেগুন, মুখীকচু। অনেকে আগাম বাঁধাকপিও চাষ করেছেন। সবজি বীজ উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত চুড়ামনকাটির আব্দুলপুরে এবারও আগাম বাঁধাকপিসহ অন্যান্য সবজির চারা রোপণ করেছিলেন কৃষক। অনেক জমি চারা উৎপাদনের জন্যও প্রস্তুত করা হচ্ছিল। কয়েকদিনের বর্ষণে সবকিছুই পানির নিচে চলে গেছে।

এ ব্যাপারে যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘এখন আর বৃষ্টি না হলে তেমন ক্ষতির মুখে পড়তে হবে না। তবে নতুন করে বৃষ্টি হলে সবজিতে পচন ধরবে।’ কৃষক যাতে ক্ষতি সামলে উঠতে পারে সেজন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সহায়তা ও পরামর্শ দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

আরও