রাজধানীর উত্তরায় র্যাব পরিচয়ে প্রায় এক কোটি আট লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), উত্তরা বিভাগ ও উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। গ্রেফতার হওয়া সবাই বহিষ্কৃত পুলিশ ও সেনা সদস্য।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মুহিদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— মো. হাসান, গোলাম মোস্তফা ওরফে শাহিন, শেখ মো. জালাল উদ্দিন ওরফে রবিউল, মো. ইমদাদুল শরীফ ও মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে শিপন। তাদের কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকা ও ডাকাতিতে ব্যবহৃত হাইয়েস মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী গোলাম মোস্তফা বাংলাদেশ পুলিশের বহিষ্কৃত কনস্টেবল। আর শেখ মো. জালাল উদ্দিন ওরফে রবিউল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বহিষ্কৃত সার্জেন্ট।
ডিসি মুহিদুল ইসলাম জানান, ১৪ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগদের এক পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের চার কর্মচারী উত্তরার ১২ নম্বর সড়কের বাসা থেকে নগদের অফিসে যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে নগদের ১ কোটি ৮ লাখ ১১ হাজার টাকা ছিল। পথে ১২ ও ১৩ নম্বর সড়কের সংযোগস্থলে ‘র্যাব’ লেখা কটি পরা, মুখে কালো কাপড় বাঁধা সশস্ত্র ৬–৭ জন একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসে এসে তাদের গতিরোধ করে। তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চারটি ব্যাগে থাকা সব টাকা ছিনিয়ে নেয়। একই সঙ্গে তিন কর্মচারীকে মারধর করে তুরাগ থানার ১৭ নম্বর সেক্টরে ফেলে রেখে চলে যায়।
এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা হয়। পরে ডিবি ও থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে খিলগাঁও এলাকা থেকে মাইক্রোবাসচালক মো. হাসানকে গ্রেফতার করে। তার তথ্যে গাড়িটি জব্দ করা হয়। পরে প্রধান অভিযুক্ত বহিষ্কৃত পুলিশ সদস্য শাহিনকে উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে তার কাছ থেকে ১৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে অন্য তিনজন— ইমদাদুল শরীফ (৮ লাখ ৪ হাজার টাকাসহ), জালাল উদ্দিন (৬৩ হাজার টাকাসহ) ও সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া জালালের নামে ব্যাংকে জমা রাখা ১২ লাখ টাকা জব্দের আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ আরো জানায়, অভিযুক্তদের কাছ থেকে র্যাব ও পুলিশের নকল পরিচয়পত্র, লাঠি, সিগন্যাল লাইট, সেনাবাহিনীর লোগোসহ মানিব্যাগ, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে র্যাব ও পুলিশের পরিচয় দিয়ে ডাকাতির কথা স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে ও পলাতকদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।