দেশে গ্যাসের চাহিদা পূরণে এবার পুরাতন কূপ থেকে নতুন করে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট গ্যাস ফিল্ড। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিয়ানীবাজার গ্যাস ফিল্ডের ১ নম্বর কূপে ওয়ার্ক ওভারের উদ্বোধন করা হয়েছে। গ্যাস ফিল্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ওয়ার্ক ওভার শেষ করে এ কূপের উপরের স্তর থেকে প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার পর প্রায় ১৮ বছর এক নম্বর কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হয়। এরপর গ্যাস উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়। ২০১৭ সাল থেকে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ থাকলেও আবার নতুন স্তর থেকে গ্যাসের জন্য ড্রিলিং শুরু হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাস সংকট নিরসনে পরিত্যক্ত গ্যাসকূপ থেকে পুনরায় গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে বিয়ানীবাজারে পরিত্যক্ত এই কূপ ছাড়াও দেশের অন্যান্য স্থানে কূপ খনন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশনের (বাপেক্স) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধীন বিয়ানীবাজার দেশের ২৮ তম গ্যাসক্ষেত্র। আমরা এখানকার একটি কূপ খনন করেছি। আগামী মাস থেকে গ্যাস ক্ষেত্রের প্রসারতা অনুমান করা যাবে। গ্যাস মূল্যায়ন করা যাবে। আরো দুটা বা তিনটা কূপ খনন করা যায় কিনা দেখা যাবে।’
তিনি আরো জানান, এই গ্যাসের মার্কেটিং করে জালালাবাদ গ্যাস। আগামী ২০২৩ সালে জকিগঞ্জ ২ ও ৩ নম্বর কূপ খনন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, ২০২৩ সালের মধ্যে আরো ৩ টি কূপ খনন ও ৪ টি কূপ ওয়ার্কওভার শুরু করবে সিলেট গ্যাস ফিল্ড। এসব কাজ শেষ হলে এ অঞ্চল থেকে দৈনিক ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে।