দেশে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চাই: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এখন বিশ্বে একটি অনুসরণীয় নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের পরিবেশ পুলিশ সদস্যরাই তৈরি করেছেন। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে ধারা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে পুলিশকে সচেষ্ট থাকতে হবে

দেশে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি চালু করতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি যে আস্থা ফিরেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই মান বজায় রাখতে হবে।

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে আজ সকালে নির্বাচনী দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে পালনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ক দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পুলিশ সদর দপ্তর এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এখন বিশ্বে একটি অনুসরণীয় নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের পরিবেশ পুলিশ সদস্যরাই তৈরি করেছেন। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের যে ধারা শুরু হয়েছে, তা অব্যাহত রাখতে পুলিশকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করাও পুলিশের আইনি দায়িত্ব।

সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের যে আস্থা নষ্ট হয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে তা অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনও একই মানদণ্ডে সম্পন্ন করতে পুলিশকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখার অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক এ কে এম আওলাদ হোসেন এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক, রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক, মহানগর পুলিশের কমিশনার, জেলা পুলিশ সুপার এবং অন্যান্য পুলিশ ইউনিটের পুলিশ সুপার ও তদূর্ধ্ব পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আইন অনুযায়ী নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পুলিশ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিথ্যা তথ্য ও অপতথ্য ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরির অপচেষ্টা মোকাবেলায় পুলিশকে সতর্ক থাকতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের দিকনির্দেশনা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতা এবং পুলিশের সব পর্যায়ের সদস্যদের পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার সমন্বয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসংক্রান্ত কর্মপরিকল্পনা এবং একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আগামী ১৬ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ১১৪টি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শুরু হবে। এতে প্রায় ৪০ হাজার পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় পুলিশকে নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো বেআইনি নির্দেশ দেয়া হবে না।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করা হয়েছে, একইভাবে অন্তত সেই মান বজায় রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও আয়োজন করতে চান তারা।

আরও