প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সংস্কারে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এ পাঁচ বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৮ সালে নতুন কারিকুলাম চালুর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ফ্রম দ্য ফিল্ড টু রিফর্ম: অ্যাডভান্সিং প্রাইমারি এডুকেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও ইউনিসেফ যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী গত সাত মাসে বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রাপ্ত বিভিন্ন তথ্যের পাশাপাশি ১ হাজার ৭০০-এর বেশি মনিটরিং কর্মকর্তা ও দেড় হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষকের মতামতের ভিত্তিতে তৈরীকৃত সমীক্ষা ও সমস্যা সমাধানে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সমীক্ষায় ৮৬ দশমিক ৩ শতাংশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা মাসে সর্বোচ্চ ১০টি স্কুল পরিদর্শন করতে সক্ষম হন। যদিও ৫৮ শতাংশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাদের ৫০টিরও বেশি স্কুল তদারকির দায়িত্ব রয়েছে। এছাড়া ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রায়ই শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অধিক দেখানো হয় আর ৭২ দশমিক ৪ শতাংশ জানিয়েছেন, শিক্ষকরা প্রায়ই যথাসময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না। উত্তরদাতাদের মধ্যে ৪৯ দশমিক ২ শতাংশ শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি দেখানো এবং শিক্ষকদের যথাসময়ে উপস্থিত না হওয়ার পেছনে প্রধান শিক্ষকের দুর্বল নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন। এছাড়া ৫৯ দশমিক ২ শতাংশ কর্মকর্তা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন। এসব সমস্যার সমাধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘সংস্কার পরিকল্পনায় ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ কারিকুলাম লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ২০২৭ সালের মধ্যে পরিমার্জিত পাঠ্যসামগ্রী ও মূল্যায়ন পদ্ধতি মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে এবং দেশের ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৬৭ জন সরকারি প্রাথমিক শিক্ষককে ব্লেন্ডেড ও ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিশেষ পেশাগত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ঝরে পড়া রোধে শিক্ষকদের মর্যাদা, বেতন-ভাতা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. মোক্তার আলী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া ও বীথিকা বিনতে হোসাইন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন এবং গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী।