তিনি বলেন, ‘এসডিজিতে যে লক্ষ্যগুলোর কথা বলা হয়েছে, বিএনপির নির্বাচনী ইশতাহারে এর চেয়েও বেশি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার বাইরেও দেশের মানুষের উন্নয়নে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার এগোচ্ছে।’
গতকাল রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নিয়ে জাতীয় সম্মেলন: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনের শেষ দিনে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো এবং এসডিজি’ শীর্ষক প্লেনারি সেশন অনুষ্ঠিত হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান।
সমাপনী অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুল আওয়ালসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এসডিজি কোনো চ্যারিটি বা দান নয়; বরং মানুষের নাগরিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে অর্থনীতির সুফল সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।’ মূল্যস্ফীতি নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক জরিপ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতে পরিসংখ্যান নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল, বর্তমান সরকারের অধীনে তা হবে না। সঠিক তথ্য না দিলে আপনি কীসের ভিত্তিতে সঠিক পলিসি করবেন?’
জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির হার ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ হওয়ার তথ্য সঠিক ও যাচাইকৃত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাজারে চাল ও মাংসের দাম কিছুটা কমেছে।’ একই সঙ্গে নিম্ন আয়ের মানুষ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একটি মানবিক সরকারের পক্ষেই এ ধরনের উদ্যোগ নিশ্চিত করা সম্ভব।’
সম্মেলনের সমাপনী দিনে সকালে অনুষ্ঠিত প্লেনারি সেশনে সভাপতিত্ব করেন সিটিজেন প্লাটফর্ম ফর এসডিজির কনভেনর ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন। এই সেশনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, মাধবী মারমা, এমপি (সিএইচটি)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এজেডএম জাহিদ হোসেন ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগী ও দুর্নীতিমুক্তভাবে প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে এ কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে, যাতে দরিদ্র জনগোষ্ঠী সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসতে পারে। কার্ড দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না।’
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও মেগা অবকাঠামোর পরিসংখ্যান দিয়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতির যে দাবি করা হয়েছিল, বাস্তবে তার সঙ্গে দেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়নের সামঞ্জস্য ছিল না।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার কঠোর ব্যবস্থাপনায় দেশের বাজারে তেলের দাম সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, যেন নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারেন।’