বি‌পি‌ডি‌বি‌র পর সরকারের জন্য বড় আ‌র্থিক দায় তৈ‌রি করছে পাওয়ার গ্রিড

পিজিসিবির আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন খাতের কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রায় পুরোটা একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ব্যয় দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য কার্যকর প্রতিযোগিতামূলক বেঞ্চমার্ক নেই।

বিদ্যুৎ খাতের একক ক্রেতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বিপুল ঋণ ও লোকসানের বোঝায় সরকারের জন্য বড় আর্থিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। একই পথে হাঁটছে দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার একক প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি) পিএলসি। প্রতিষ্ঠানটির দেশী-বিদেশী ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, অথচ পর্যাপ্ত সঞ্চালন আয় না হওয়ায় তৈরি হচ্ছে পরিচালন ঘাটতি। এর সঙ্গে বৈদেশিক ঋণের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নজনিত বড় অংকের আর্থিক ক্ষতি যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারের জন্য পাওয়ার গ্রিডের আর্থিক দায় ও ঝুঁকি ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিডের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, সময় গড়ানোর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ঋণের বোঝা বেড়েই চলেছে। ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে পাওয়ার গ্রিডের মোট ঋণ ছিল ৩০ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। সংরক্ষিত আয়ের উদ্বৃত্ত ছিল ৭৩৭ কোটি টাকা। পরের অর্থবছরে ঋণ বেড়ে ৪০ হাজার ১৬৪ কোটি টাকায় উঠলেও সংরক্ষিত আয় ঋণাত্মক হয়ে ৬৪৮ কোটি টাকার লোকসান দাঁড়ায়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঋণ বেড়ে ৪৯ হাজার ৯৭৫ কোটি এবং সংরক্ষিত লোকসান ১ হাজার ২৭৭ কোটি টাকায় পৌঁছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণ আরো বেড়ে ৫৯ হাজার ৬৯২ কোটি ও সংরক্ষিত লোকসান ১ হাজার ৪৮৮ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত পিজিসিবির ঋণের স্থিতি ৬৬ হাজার ৩৪১ কোটি এবং সংরক্ষিত লোকসান ৯২১ কোটি টাকা।

পিজিসিবি সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার ঋণে সঞ্চালন লাইন, সাবস্টেশন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম স্থাপন করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব ঋণের অর্থেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পটুয়াখালী-গোপালগঞ্জ, আমিনবাজার-গোপালগঞ্জ, দিনাজপুর ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে সঞ্চালন লাইন ও অবকাঠামো উন্নয়নে পিজিসিবির ১৪টি প্রকল্প চলমান। এসব প্রকল্পে দেশী-বিদেশী ঋণ মিলিয়ে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা।

তবে বড় অংকের অবকাঠামো বিনিয়োগের বিপরীতে সঞ্চালন আয় প্রত্যাশিত হারে বাড়েনি। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা বলছেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সঞ্চালন না হওয়ায় আয় ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কোম্পানির লোকসানে। অনেক ক্ষেত্রে সঞ্চালন অবকাঠামো নির্মাণের পরও তা পর্যাপ্তভাবে ব্যবহার না হওয়ায় এর বিপরীতে পরিচালন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। গত কয়েক বছরে বিপিডিবির গ্যাসভিত্তিক বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকেও প্রত্যাশিত পরিমাণ বিদ্যুৎ সঞ্চালন হয়নি। ফলে দূরবর্তী কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ক্ষেত্রে ট্রান্সমিশন লস বেড়েছে। এতে একদিকে সঞ্চালন আয় কমেছে, অন্যদিকে অব্যাহত থেকেছে অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন ব্যয়।

অর্থ বিভাগের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নেও সরকারের ওপর পাওয়ার গ্রিডের আর্থিক ঝুঁকির বিষয়টি উঠে এসেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলোর দায় ও আর্থিক ঝুঁকিসংক্রান্ত অর্থ বিভাগের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, তিন বছরের মধ্যে পাওয়ার গ্রিডের আর্থিক ঝুঁকি মাঝারি মান থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে ‘উচ্চ’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। ওই অর্থবছর শেষে কোম্পানিটির মোট দায় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৩০ দশমিক ২৬ শতাংশ বেশি। মোট ঋণের প্রায় ৮৯ শতাংশই সরকারের সঙ্গে করা সাবসিডিয়ারি লোন অ্যাগ্রিমেন্ট (এসএলএ) ও লোন অ্যাগ্রিমেন্টের (এলএ) আওতায় নেয়া।

পিজিসিবির আয়ের প্রধান উৎস হুইলিং বা সঞ্চালন চার্জ। এ চার্জের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন ব্যয়, প্রকল্প বাস্তবায়নসহ সামগ্রিক ব্যয় নির্বাহ করা হয়। কিন্তু গত কয়েক বছর হুইলিং চার্জ বাড়ানো হয়নি। একই সময়ে বছরভিত্তিক যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সঞ্চালনের প্রাক্কলন করা হয়েছিল, সেটিও পূরণ হয়নি। ফলে ব্যয় বাড়লেও সে অনুপাতে আয় বাড়েনি।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারজনিত ক্ষতি। ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে পিজিসিবির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা। বড় অঙ্কের বিদেশী ঋণ থাকায় বিনিময় হার পরিবর্তনের এ চাপ সরাসরি কোম্পানির আর্থিক অবস্থায় পড়েছে।

পাওয়ার গ্রিডের পর্ষদে পরিচালক হিসেবে থাকা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পাওয়ার গ্রিডের বড় অঙ্কের বিদেশী ঋণ রয়েছে। ফলে ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। মুদ্রার অবমূল্যায়নজনিত এ ঝুঁকি প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে পাওয়ার গ্রিডের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে পর্ষদেও উদ্বেগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে এ অবস্থা থেকে বের করে আনতে পর্ষদে আলোচনার পাশাপাশি কিছু পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে।’

পাওয়ার গ্রিডের আর্থিক ঝুঁকির আরেকটি বড় দিক হলো এর মূলধন কাঠামো। ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে কোম্পানিটির মোট মূলধনের ৮১ শতাংশই ছিল ঋণভিত্তিক, বিপরীতে ইকুইটির অংশ মাত্র ১৯ শতাংশ। ওই অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ-মূলধন অনুপাত দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৬৫ এবং ঋণ ও কর-পূর্ববর্তী আয়ের অনুপাত ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশে দাঁড়ায়। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব মূলধনের তুলনায় ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি এবং পরিচালন আয় দিয়ে ঋণের বোঝা সামাল দেয়ার সক্ষমতাও দুর্বল।

সরকারের অর্থায়ন কাঠামোও পাওয়ার গ্রিডের এ ঋণনির্ভরতা বাড়িয়েছে। সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে যে অর্থ দেয়, তার একটি অংশ ইকুইটি এবং বড় অংশ ঋণ হিসেবে দেখানো হয়। বিশেষ করে সাবসিডিয়ারি লোন অ্যাগ্রিমেন্টের আওতায় দেয়া অর্থ প্রতিষ্ঠানের দায় হিসেবে যুক্ত হচ্ছে। ফলে সরকারের দেয়া অর্থের একটি অংশ প্রকৃতপক্ষে ভর্তুকির প্রকৃতি বহন করলেও তা প্রতিষ্ঠানটির ব্যালান্সশিটে ঋণ হিসেবে জমা হচ্ছে। এ পদ্ধতির ফলে সরকারের তাৎক্ষণিক আর্থিক ঘাটতির ওপর চাপ তুলনামূলক কম দেখা গেলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যালান্সশিটে দায় ক্রমেই বাড়ছে। যে অর্থ বাস্তবে ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কম, সেটিকে ঋণ হিসেবে দেখানোর ফলে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ঋণের বোঝা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যে ব্যয় হচ্ছে সেটি নিজস্ব আয়ের মাধ্যমে পূরণ করতে পারছে না পাওয়ার গ্রিড। প্রতিষ্ঠানটির কস্ট রিকভারি অনুপাত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল দশমিক ৮৬। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটি মোট ব্যয়ের বিপরীতে মাত্র ৮৬ শতাংশ অর্থ পুনরুদ্ধার করতে পারছে। ফলে প্রায় ১৪ শতাংশ পরিচালন ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ইতিবাচক পরিচালন নগদ প্রবাহ ও পরিচালন মুনাফা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ অ-পরিচালন ব্যয়ের কারণে কোম্পানিটি নিট লোকসানে রয়েছে। ওই অর্থবছরে রিটার্ন অন ইকুইটি দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং রিটার্ন অন অ্যাসেটস ঋণাত্মক দশমিক ৬৭ শতাংশ। একই সময়ে পাওনাদারদের বিল পরিশোধের গড় সময় বা বেড়ে ৩২৯ দিনে দাঁড়িয়েছে।

লোকসানের বোঝা কমাতে পাওয়ার গ্রিডের পক্ষ থেকে হুইলিং চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাবের পর গত জুনে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের নতুন হার নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে পিজিসিবির সঞ্চালন আয় বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা বাড়তে পারে বলে স্টক এক্সচেঞ্জকে জানিয়েছে কোম্পানিটি।

দেশের একমাত্র বিদ্যুৎ সঞ্চালন সংস্থা হিসেবে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৭ সালে। প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত পাঁচবার সঞ্চালন ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগ তিনবার এবং বিইআরসি দুবার ট্যারিফ নির্ধারণ করেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সঞ্চালন ট্যারিফ বাড়ানোর পর সর্বশেষ চলতি বছরের জুনে তা আবারো বাড়ানো হয়েছে।

পিজিসিবির আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালন খাতের কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার প্রায় পুরোটা একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ব্যয় দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য কার্যকর প্রতিযোগিতামূলক বেঞ্চমার্ক নেই। একটি মনোপলি প্রতিষ্ঠানে খরচ কমানো ও দক্ষতা বাড়ানোর স্বাভাবিক বাজারচাপও থাকে না। এ কারণে ট্রান্সমিশন খাতে একাধিক প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা, সরকারি অন্য প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা কিংবা আংশিকভাবে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দেয়ার বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে প্রতিযোগিতামূলক বেঞ্চমার্ক তৈরি হওয়ার পাশাপাশি পিজিসিবির ব্যয় ও কর্মদক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাবেক অর্থ সচিব ও মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ট্রান্সমিশন কোনো ব্যবসা নয়, এটি বিদ্যুৎ খাতের লাইফলাইন। তাই পিজিসিবির ক্ষেত্রে পূর্ণ কস্ট রিকভারি নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতিষ্ঠানটি যদি পূর্ণ ব্যয় আদায় করতে না পারে, তাহলে ধারাবাহিক লোকসান হবে এবং সে ঘাটতি শেষ পর্যন্ত সরকারকেই ভর্তুকি দিয়ে পূরণ করতে হবে। কিন্তু ভর্তুকির অর্থ ঋণ হিসেবে দেখানোর কারণে পিজিসিবির ওপর ধীরে ধীরে ঋণের বোঝা জমেছে, যা ভবিষ্যতে আনসাসটেইনেবল হয়ে উঠতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ট্রান্সমিশনে পিজিসিবির একচেটিয়া অবস্থানের কারণে দক্ষতা যাচাইয়ের কার্যকর বেঞ্চমার্কও নেই। তাই একাধিক প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা বা আংশিকভাবে বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে একটি প্রতিযোগিতামূলক কাঠামো তৈরি করা যায় কিনা, তা নীতিনির্ধারকদের বিবেচনা করা উচিত।’

সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ, সঞ্চালন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া, হুইলিং চার্জের তুলনামূলক ধীর সমন্বয়, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারজনিত ক্ষতি এবং পূর্ণ কস্ট রিকভারি না হওয়ার কারণে পিজিসিবির আর্থিক চাপ ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে সরকারের কাছ থেকে নেয়া অর্থের বড় অংশ ঋণ হিসেবে হিসাবভুক্ত হওয়ায় এ দায় শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের ওপরও চাপ তৈরি করছে। ফলে বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামোর সম্প্রসারণের পাশাপাশি পিজিসিবির আর্থিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, কস্ট রিকভারি নিশ্চিত করা এবং সরকারের অর্থায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা এখন নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়ের জন্য সরকারের কাছ থেকে প্রতি বছর অর্থ নেয় পাওয়ার গ্রিড। সরকারের কাছ থেকে নেয়া এ অর্থের ৬০ শতাংশ ইকুইটি ও ৪০ শতাংশ ঋণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইকুইটি হিসেবে নেয়া অর্থ কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে ডিপোজিটের পর শেয়ার হিসেবে দেখানো হয়। নিয়ম অনুসারে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ডিপোজিট ফর শেয়ারের অর্থের বিপরীতে সরকারের অনুকূলে শেয়ার ইস্যু করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে বিনিয়োগকারীদের মুনাফার ভাগ হিসেবে লভ্যাংশ প্রদানের নিয়ম রয়েছে। এজন্য কোম্পানির আয় ও মুনাফায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নে ধীরগতির কারণে পিজিসিবির আয় ও মুনাফা প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। তার ওপর প্রতি বছর বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সরকারের কাছ থেকে ইকুইটি হিসেবে বিপুল পরিমাণে অর্থ নিচ্ছে পিজিসিবি। এ অর্থের বিপরীতে প্রচুরসংখ্যক শেয়ারও ইস্যু করতে হচ্ছে কোম্পানিটিকে। এতে কোম্পানিটির আর্থিক সক্ষমতা আরো দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।

আরও