বাগেরহাটে মাজারের দিঘিতে কুমিরের টেনে নেয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার

মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে দাফন

গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে খান জাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের নারীঘাটে গোসল করতে নামলে ফাতেমা আক্তারকে মাজারে থাকা একমাত্র কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই চারদিকে চিৎকার শুরু হয়। স্থানীয়রা নৌকা নামিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

বাগেরহাটের খান জাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের টেনে নেয়া শিশু ফাতেমা আক্তারের (৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আজ ভোরে মাজারের খাদেম ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন। দুপুর ১২টায় জানাজা শেষে দিঘির পূর্ব ও দক্ষিণ পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে খান জাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের নারীঘাটে গোসল করতে নামলে ফাতেমা আক্তারকে মাজারে থাকা একমাত্র কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই চারদিকে চিৎকার শুরু হয়। স্থানীয়রা নৌকা নামিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

মাজারসংশ্লিষ্টরা ও পুলিশ জানায়, ফাতেমা একজন মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। তারা মাজারেই বসবাস করতেন। এর বাইরে শিশুটির পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী জানান, রাতে ঘাটে অনেক মানুষ ছিল। শিশুটি গোসলে নামার পর কুমির তাকে টেনে নেয়। তখন সে ও আশপাশের লোকজন চিৎকার করতে থাকে। একপর্যায়ে কুমিরটি শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।

ঘাটসংলগ্ন এক দোকানি জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর শরীরের কয়েকটি স্থানে কুমিরের কামড়ের চিহ্ন দেখা গেছে।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে জানাজা শেষে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা ও সভা করে মাজারের দিঘির ঘাটগুলো সুরক্ষিত করতে উদ্যোগ নেয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ বলেন, এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ঘাট দুটিতে বেষ্টনী বা ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

আরও