সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলোয় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এ বয়সসীমা কার্যকর। সেই সঙ্গে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সংশোধনকল্পে আনীত বিলটিও পাস হয়েছে গতকালের সংসদে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই বিল দুটি আইনে পরিণত হবে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বিল দুটি গতকাল সংসদে উত্থাপন করেন। সে সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। তবে বিরোধী দলের সদস্যরা কণ্ঠভোটে অংশ নেয়া থেকে বিরত থাকেন। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি সংসদে হুবহু তুলে ধরার সুপারিশ দিয়েছিল বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে চারটি রহিত করা এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে আরো শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশসংক্রান্ত বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে চাকরিপ্রার্থীদের প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ানোর দাবি এবং বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে “সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ অধ্যাদেশ, ২০২৪”-এ সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হয়। কিন্তু কিছু নিয়োগবিধিতে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৩-৪৫ নির্ধারিত আছে। এতে নিয়োগে জটিলতা তৈরি হয়। জটিলতা নিরসনে ২০২৫ সালে অধ্যাদেশটি অধিকতর সংশোধন করা হয়।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর রেখে সার্কুলার জারি করে নিয়োগপ্রক্রিয়া চালু রয়েছে বিধায় অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করা আবশ্যক।’
এ আইন অনুযায়ী, বিসিএসের সব ক্যাডারে ও ক্যাডার-বহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাগুলোর চাকরির সব পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও বয়সসীমা ৩২ বছর হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল। পরে আবার সেটায় সংশোধনী এনে অধ্যাদেশ করা হয়েছিল। ওই দুটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আনা সংশোধনী হুবহু রেখে গতকাল ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল ২০২৬’ সংসদে তোলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। আলোচনা ছাড়াই বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলে সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও দণ্ডসংক্রান্ত বিশেষ বিধান পাস হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বৈধ আদেশ অমান্য করেন, আইনসংগত কারণ ব্যতিরেকে সরকারের কোনো আদেশ, পরিপত্র ও নির্দেশ অমান্য করেন বা এর বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত করেন বা এসব কাজে অন্য কোনো সরকারি কর্মচারীকে প্ররোচিত করেন, তা হবে অসদাচরণ। ছুটি বা যুক্তিসংগত কোনো কারণ ছাড়া অন্য কর্মচারীদের সঙ্গে সমবেতভাবে নিজের কাজ থেকে অনুপস্থিত বা বিরত থাকাও হবে সরকারি কর্মে বিঘ্ন সৃষ্টিকারী অসদাচরণ। যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে তার কর্মে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করা হবে অসদাচরণ। এ ধরনের অসদাচরণের জন্য নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর দেয়া ও চাকরি থেকে বরখাস্ত করার বিধান আছে।