বিজিএমইএর ‘ইএসজি প্লাটফর্ম’ উদ্বোধনে ড. তিতুমীর

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদারই সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্য

উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কর্মসূচি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমাতে এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে ভূমিকা রাখবে।’

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।’

তিনি বলেন, ‘উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে।’

গতকাল রাজধানীতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ‘ইএসজি প্লাটফর্ম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকায় ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিআইজিডির রিসার্চ পরিচালক প্রফেসর মুন্সি সোলায়মান এবং ম্যাপড ইন বাংলাদেশের (এমআইবি) টেকনিক্যাল লিড প্রফেসর মতিন আব্দুল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে বড় অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করে নতুন আয়ের উৎস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। ১৯৭৫-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, দুর্ভিক্ষ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নতুন আয়ের উৎস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারীর আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতি আসে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের তরুণ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা মানুষের মধ্যে নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কর্মসূচি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমাতে এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে ভূমিকা রাখবে।’

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা এগোচ্ছে। এক্ষেত্রে অতীতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশীয় শিল্প ও অর্থনীতিকে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’ এ বিষয়ে ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে পাঁচটি ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছে। এগুলো হলো নীতির ধারাবাহিকতা, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশের উন্নয়ন, অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পণ্য পরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।’

বিজিএমইএর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিএমইএর পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মুস্তাফিজ। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং পরিচালক নাফিস উদ দৌলাসহ বিজিএমইএর অন্যান্য নেতা ও সাধারণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘বিশ্ববাজারের পরিবর্তিত চাহিদা এবং টেকসই পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের কারখানাগুলোকে আরো বেশি কমপ্লায়েন্ট ও তথ্যসমৃদ্ধ হতে হবে। বিজিএমইএর উদ্যোগে চালু হওয়া “‍ইএসজি প্লাটফর্ম” আমাদের সদস্য কারখানাগুলোর পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন-সংক্রান্ত কার্যকারিতা মূল্যায়ন ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরো উল্লেখ করেন, এ পর্যন্ত ৩২৬টি কারখানা এ প্লাটফর্মে রিপোর্ট করেছে, তবে সংখ্যাটি এখনো যথেষ্ট নয়। শিল্প খাতের সার্বিক সুরক্ষায় এটি অচিরেই সদস্যদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে এবং প্রয়োজনে এ ব্যাপারে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ যৌথভাবে কাজ করবে।

আরও