নড়াইল সদর হাসপাতাল

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত কমিটি

নড়াইল সদর হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম সেবা ফির ৭০ লাখ টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বুধবার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নড়াইল সদর হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম সেবা ফির ৭০ লাখ টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্তকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বুধবার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এর আগেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল মো. মাহফুজুর রহমান নামে আরেক হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সেবা ফি বাবদ আয়ের কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেননি। অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান।

হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয় সূত্র জানায়, বহির্বিভাগ ফি, জরুরি বিভাগ ফি, ভর্তি ফি, প্যাথলজি ফি, এক্স রে ফি, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ফি, ক্যাবিন ফি, অ্যাম্বুলেন্স ফি, অপারেশন ফি, কভিড-১৯ বাবদ ফিসহ অন্যান্য ফি রোগীদের থেকে নেয়া হয়। এসব ফি সোনালী ব্যাংকের চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। টাকা নড়াইল সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় জমা হওয়ার কথা। কিন্তু ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়া হয়নি। ব্যাংকে জমা দেয়ার জাল চালান হাসপাতালের হিসাবরক্ষকের কার্যালয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। একইভাবে এর আগের হিসাবরক্ষক মো. মাহফুজুর রহমান সাত বছরের সেবা ফির প্রায় কোটি ৩০ লাখ টাকা জমা দেননি।

সূত্রটি আরো জানায়, ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানমকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বুধবার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া কোটি ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সে সময়ে হাসপাতাল অডিটে ধরা পড়ে। ঘটনায় মো. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যশোর কার্যালয়ে মামলা হয়েছে (মামলা নম্বর-/২০২০) মামলাটি বিচারাধীন।

অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. আব্দুস শাকুর বণিক বার্তাকে বলেন, প্রতি বছর অডিট হওয়ার কথা, কিন্তু অডিট হয় চার-পাঁচ বছর পর। প্রতি বছর অডিট হলে এমন সমস্যা হতো না।

তিনি আরো জানান, সেবা ফির টাকা প্রতিটি বিভাগ থেকে লিখিতভাবে গ্রহণ করেন হিসাবরক্ষক। হিসাবরক্ষক প্রতি মাসে ওই টাকা ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেবেন। কিন্তু হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম ওই টাকা জমা না দিয়ে ব্যাংকে জমা দেয়ার জাল চালান তৈরি করে সংরক্ষণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে গত মঙ্গলবার ব্যাংকে গিয়ে যাচাই করে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

ব্যপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত জাহান আরা খানম সাংবাদিকদের বলেছেন, কিছু টাকা জমা দেয়া হয়নি। তা এক সপ্তহের মধ্যে জমা দিয়ে দেব। জাল চালান তৈরির বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি। কত টাকা জমা দেননি, জানতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।

আব্দুস শাকুর বলেন, আত্মসাত্কৃত অর্থ ব্যাংকে জমা দেয়ার জন্য জাহান আরা খানমকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে। তিনদিনের মধ্যে নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান সার্জারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট মো. আকরাম হোসেন সদস্য সচিব আরএমও মশিউর রহমান। কমিটিকে সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

আরও