রিয়েল টাইম মিটারিংয়ে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সীমিত হওয়ার শঙ্কা

-মোহাম্মাদ মুস্তাফা হায়দার

গ্রুপ ডিরেক্টর, টিকে গ্রুপ

উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে পরবর্তী সময়ে গ্রিড বা বিপিডিবির সঙ্গে হিসাব সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে না।

সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য মার্চেন্ট পাওয়ারসংক্রান্ত একটি নতুন নীতিমালা প্রস্তাব করেছে। এতে বিদ্যুতের মিটারিং তাৎক্ষণিক বা রিয়েল টাইম ভিত্তিতে করার কথা বলা হয়েছে। তবে এ ব্যবস্থা সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে বাধা তৈরি করতে পারে। বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের ক্ষেত্রে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এ ব্যবস্থায় কোনো প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারে। আবার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন না হলে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে মাস শেষে উৎপাদন ও ব্যবহারের হিসাব সমন্বয় করা যায়। কিন্তু মার্চেন্ট পাওয়ারের ক্ষেত্রে রিয়েল টাইম মিটারিং চালু হলে দিনের যে সাড়ে ৪ ঘণ্টা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, মূলত সে সময়েই ক্রেতাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে পরবর্তী সময়ে গ্রিড বা বিপিডিবির সঙ্গে হিসাব সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে না। ফলে ২৪ ঘণ্টার হিসাবে সৌরবিদ্যুৎ থেকে সর্বোচ্চ ১৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ নীতিমালার কাঠামোর কারণেই সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আটকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য এবং নীতিমালার বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হচ্ছে, তা দূর করা প্রয়োজন। আমাদের মতো যেসব প্রতিষ্ঠান কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের পরিবেশগত লক্ষ্য পূরণে কাজ করছে, তাদের জন্য সহায়ক নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছাদে পর্যাপ্ত সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ নেই, তারা মার্চেন্ট পাওয়ার প্লান্ট থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে আগ্রহী। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য উৎস শনাক্তযোগ্য নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ আরো সম্প্রসারিত হবে।

আরও