সিরিজ জয়ের সুযোগ হারাল বাংলাদেশ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের সুযোগ হারাল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে গতকাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ডিএলএস মেথডে কিউইদের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে স্বাগতিকরা।

বৃষ্টি বাধায় ম্যাচটি নেমে আসে ১৫ ওভারে। লিটন দাসের দল ১৪.২ ওভারে ১০২ রান তুলে গুটিয়ে যায়। জবাবে বেভন জ্যাকবসের বীরত্বে কিউইরা ৬ উইকেট ও ২০ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে। এ জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজটা ১-১-এ ড্র করতে সমর্থ হয় অতিথিরা।

স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৩৭ মিনিটে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর প্রায় ২ ঘণ্টা বিলম্বিত হয় খেলা, যা পুনরায় শুরু হয় বিকাল সাড়ে ৪টায়। তখন ম্যাচ হারায় ১০ ওভার। ১৫ ওভারের মধ্যেই বাংলাদেশকে অলআউট করার কৃতিত্ব দেখায় খর্বশক্তির নিউজিল্যান্ড দল। ডানহাতি পেস বোলার জস ক্লার্কসন ৯ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বড় ক্ষতিটা করেন। এরপর চার বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায় ৩১ বলে ৬২ রান করে নিউজিল্যান্ডকে জেতান জ্যাকবস।

রান তাড়া করতে নেমে কিউইরা দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও জ্যাকবসের বীরত্বে ছোট টার্গেটটা শেষ পর্যন্ত সহজে ছুঁয়ে ফেলে। জ্যাকবস দুর্দান্ত টেম্পারামেন্ট প্রদর্শন করে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর কর্তৃত্ব করেন। ১২তম ওভারে রিশাদ হোসেনকে টানা ৬, ৪, ৬ মেরে ম্যাচ শেষ করে দেন জ্যাকবস। শরীফুলের আঘাতে ৩৩ রানে ৪ উইকেট পতনের পর পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যান জ্যাকবস। ডিন ফক্সক্রফটকে নিয়ে ৪০ বলে ৭১ রানের জুটি গড়ে কিউইদের জয় নিশ্চিত করেন তিনি। এছাড়া ১৪ বলে ২৩ রান করে দলের জয়ে ভালো ভূমিকা রেখেছেন ওপেনার টিম রবিনসন।

সিরিজ জয়ের সুযোগ হারিয়ে বাংলাদেশ দলনায়ক লিটন দাস আবহাওয়াকেই দায়ী করলেন। তিনি বলেন, ‘টসের সময় আমি বলছিলাম, আবহাওয়া আজ বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠবে। টসটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমাদের ব্যাটিংয়ের সময় ১৫০ রান কঠিন মনে হচ্ছিল। এরপর আমি ও হৃদয় যখন পার্টনারশিপ গড়া শুরু করলাম, তখনই বৃষ্টি এল। এরপর দিনটি আর আমাদের ছিল না। এটা আমাদের ছন্দটা নষ্ট করে দেয়। নিশ্চিতভাবেই আপনি যখন এমন ভালো উইকেটে খেলবেন, তখন ১০০ রান কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। আমি মনে করি, ১৬০ রান এখানে মোটামুটি ভালো সংগ্রহ হতে পারত। এরপর শরীফুল ভালো করায় মাঝে আমরা তাদের চাপে ফেলতে পেরেছিলাম। কিন্তু আমাদের ব্যাটিং-বোলিং ভালো ছিল না।’

শরীফুলের ধারাবাহিকতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘শরীফুল যদি এ রকম বোলিং ধরে রাখতে পারে তাহলে ভবিষ্যতে সফলতা পাবে বাংলাদেশ।’ দর্শকের উদ্দেশে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘এরপর যখন আপনারা আমাদের সাপোর্ট করতে মাঠে আসবেন, আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে পারফর্ম করব। আপনাদের আবারো ধন্যবাদ।’

গতকাল বাংলাদেশের শামীম হোসেনের উইকেটটি শিকার করে রেকর্ড গড়েছেন কিউই স্পিনার ইস সোধি। তিনি এখন নিউজিল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক। তার উইকেট সংখ্যা ১৬৫। তিনি টপকে গেছেন টিম সাউদিকে (১৬৪)। একই ম্যাচে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৪টি ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েছেন লিটন দাস। মুশফিকুর রহিমকে (৬২) টপকে গেছেন তিনি।

আরও