কুমিল্লায় অপ্রতিম হত্যায় চারজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল

২০ অক্টোবর দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। তদন্তে ওই চার আসামির বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। ২০ অক্টোবর দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। তদন্তে ওই চার আসামির বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান গতকাল এসব বিষয় জানান।

আনিসুজ্জামান জানান, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা থেকেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অপ্রতিমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেয়ায় তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। আরেকজনের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অপ্রতিমকে ঘিরেই আমাদের বাঁচার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সে স্বপ্ন তারা কেড়ে নিয়েছে। আমরা খুনিদের দ্রুত বিচার দেখতে চাই। আশা করি, আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে। এখন আমাদের একটাই চাওয়া, খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি।’

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ মামলাটির তদন্ত করেছেন। অভিযোগপত্রে পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদের (১৫), মো. কামরুল হাসান (১৬) ও তুহিনের বন্ধু মো. সিয়ামের (১৯) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ফাহাদের বয়স ১৫ ও কামরুলের বয়স ১৬ বছর। তারা কিশোর। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশু আইন অনুযায়ী, ওই দুই কিশোরকে অভিযোগপত্রে শিশু বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তুহিন হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান অভিযুক্ত। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তিনজনের বিরুদ্ধে। সিয়াম সহযোগিতা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তুহিন এবং কিশোর ফাহাদ ও কামরুল আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। অন্য আসামি সিয়ামের বিরুদ্ধেও হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা ও পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান (মিডিয়া সেল) জানান, পুলিশ সুপারের দেয়া সময়সীমার মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার এবং গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শেষ করে ৩১ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা নগরের কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে কোটবাড়ির বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

আরও