ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১৩ অক্টোবর বিমসটেকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে সাত সদস্যদেশের এ বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নিচ্ছেন না। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। তার নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো বিদেশ সফরের সূচি নেই। ব্যস্ত সময়সূচির কারণে তিনি নয়াদিল্লি সফরে যাচ্ছেন না।
জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী গতকাল বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন, তিনি নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন এবং বৈঠকে বাংলাদেশের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। ব্যস্ততার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে অংশ নিতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্রমণি পান্ডে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগে আজ সদস্যদেশগুলোর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আলোচনায় বসবেন। ওই বৈঠক পরিচালনা করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন। ১৩ অক্টোবরের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বৈঠকে অন্য সদস্যদেশগুলোর পক্ষে অংশ নেয়ার কথা রয়েছে ভুটানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুংতেন দর্জি, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল কো কো ও, নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং, শ্রীলংকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দনা আবেরত্নে ও থাইল্যান্ডের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংসাক থংস্রির।
সূত্র অনুযায়ী, দিল্লির বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবেলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। মানব পাচার, মাদক পাচার, অর্থ পাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধের পাশাপাশি সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
১৯৯৭ সালের ৬ জুন ব্যাংকক ঘোষণার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে বিমসটেক। বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বহুখাতভিত্তিক কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার এ উদ্যোগের সাত সদস্যদেশ হলো বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান। জোটটির সচিবালয় ঢাকায়। ২০২৫ সালের এপ্রিলে বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে বাংলাদেশ।
২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয় বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন। ওই সম্মেলন উপলক্ষে তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিমসটেকের ২০তম মন্ত্রী পর্যায়ের সভায় অংশ নেন। ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ওই মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজনের ধারণাপত্র অনুমোদন করা হয়।