সকল স্তরে আর্থিক সাক্ষরতা বৃদ্ধি করার
ব্যাপারে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জনগণ সকলেরই যৌথ প্রচেষ্টার
প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত ৫ম বাংলাদেশ ইকোনমিকস
সামিট ২০২৪-এর ‘আর্থিক খাতের রূপান্তর-সীমাবদ্ধতার সাথে প্রগতি’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় আলোচকরা এসব
কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, সকল আর্থিক খাতের অন্তর্ভুক্তির
মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক করে তোলা, বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে অঞ্চলভিত্তিক বাজার
উন্নয়ন করা এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে আর্থিক সেবা সহজলভ্য করতে হবে।
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি
বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের
(পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর, অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স পিএলসির প্রধান
নির্বাহী কর্মকর্তা কান্তি কুমার সাহা, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের
(সিআরডি) আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ বিশেষজ্ঞ ড. লীলা রশিদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক
গভর্নর এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানসূচক অধ্যাপক ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বাংলাদেশের আর্থিক খাতের চারটি গুরুত্বপূর্ণ
ধারা— ব্যাংকিং, শেয়ারবাজার, বন্ড ও বীমা
সেক্টরের দুর্বলতা, প্রতিবন্ধকতা এবং আর্থিক খাতে
অপ্রতুল অন্তর্ভুক্তি বিষয়টি তুলে ধরে ড. আহসান মনসুর বলেন, শেয়ার বাজার বাংলাদেশ
অর্থনীতির একটি বড় স্তম্ভ হলেও জনগণের নিকট তা সর্বজনীন হয়নি। ভারতের সঙ্গে তুলনার
মাধ্যমে বাংলাদেশের এই অনগ্রগতির জন্য তিনি কয়েকটি বিষয়কে দায়ী করেন। যার মধ্যে
শেয়ার বাজারের সীমিত বিকাশ, সরকারি ও কর্পোরেট বন্ড বাজারের গভীরতা ও স্বচ্ছতার অভাব
এবং জনগণের বিশ্বাসের অভাব ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে বীমা খাতে সম্ভাব্য
বিকাশ ব্যাহত হওয়াকে গণ্য করেন। সমাধানের ক্ষেত্রে করণীয় হিসেবে তিনি ঋণ ব্যবস্থাপনা
উন্নীতকরণ, বন্ড বাজার পুনর্গঠন, ঋণের চক্রীয় প্রকৃতি চিহ্নিতকরণ সহ নানা বিষয়ে জোর
আরোপ করেন।
এসময় ড. কান্তি কুমার সাহা বলেন, প্রাইভেট
সেক্টরের ব্যাংকগুলোর অন্যতম বড় সমস্যা এনপিএল (নন পারফর্মিং লোন), নতুন প্রযুক্তি,
যেমন এআই, ডাটা সাইন্স ও কাগজবিহীন ব্যাংকিং বাস্তবায়নে উচ্চ খরচ, ডাটা অপ্রতুলতা
ও ডাটা মাইনিং ইস্যু এবং বন্ড বাজারের অস্থিতিশীলতা। মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস
প্রদানকারীরা কিভাবে ঋণ, আমানত ও বীমা প্রিমিয়াম সংগ্রহের মাধ্যমে খরচ ও সময় কমিয়ে
আর্থিক খাতের সম্ভাবনাকে বাস্তবায়ন করতে পারে সেই ব্যাপারে কাজ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, ‘৪র্থ শিল্পবিপ্লব এর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও নতুন শিল্পবিপ্লবের সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টার তিন দিনব্যাপী এ সামিটে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে দৈনিক বণিক বার্তা। গতকাল সামিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম এম মাকসুদ কামাল। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক মাসুদা ইয়াসমিন এবং ইকোনমিকস স্টাডি সেন্টারের মডারেটর অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান, সভাপতি ফারহা তাসনীম ও সাধারণ সম্পাদক আবরার আহম্মদ ভূঁইয়া।